নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক আয়োজনের অংশ হিসেবে ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় বক্তৃতামালা’র ষষ্ঠ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই পর্বের মূল বিষয় ছিল প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ রিচার্ড এম ইটনের গবেষণার আলোকে -‘মোঘল বাংলায় ইসলামের বিস্তার’।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ফিরোজ আহমেদ। তিনি রিচার্ড এম ইটনের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য রাইজ অব ইসলাম এন্ড দ্য বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার’-এর ওপর ভিত্তি করে একটি গভীর ও তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, “১২০৪ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলায় ইসলামের প্রবর্তন কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল তৎকালীন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার ফল। ইটন দেখিয়েছেন কীভাবে কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা এবং পরিবেশগত পরিবর্তন বাংলায় ইসলামের দ্রুত বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।”
লোকজ উপাদান, গান, কবিতা ও কথ্য ইতিহাসের মাধ্যমে ভারতীয় সভ্যতা ও ইসলামের মিথস্ক্রিয়ার এক অনন্য বয়ান তিনি সভায় তুলে ধরেন।
সম্মানিত আলোচক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন বলেন, “রিচার্ড ইটন ইতিহাসচর্চাকে কেবল রাজনৈতিক বয়ানের বৃত্ত থেকে বের করে মানবিক ও পরিবেশগত প্রেক্ষাপটে নিয়ে এসেছেন। ইসলামের বিস্তারকে শক্তি প্রয়োগের সরলীকৃত ব্যাখ্যার বাইরে দেখার জন্য এই গবেষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ ঘোষণা দেন দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-এর স্বত্বাধিকারী মাহরুফ মহিউদ্দিন। তিনি জানান, রিচার্ড এম ইটনের এই কালজয়ী গ্রন্থটির একটি মানসম্মত বাংলা অনুবাদ দ্রুতই ইউপিএল থেকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, যা বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সবশেষ আলোচক হিসেবে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম বলেন, “ইতিহাস একটি চলমান বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া। ধর্ম, সমাজ ও অর্থনীতি কীভাবে একে অপরের সঙ্গে মিশে ইতিহাস তৈরি করে, ইটনের কাজ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এ ধরনের আলোচনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনামূলক ও বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে।”
তাঁর বক্তব্য শেষে বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর মূল আলোচক ফিরোজ আহমেদকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাহফুজা মাহবুবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
