নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত নিয়মিত একাডেমিক উদ্যোগ ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় বক্তৃতামালা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের পঞ্চম পর্ব সোমবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
এ পর্বের বক্তৃতার বিষয় ছিল- ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার অন্তরায় ও উত্তরণের পথ’। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির গবেষক (এক বছর মেয়াদি গবেষণা বৃত্তি) নাজিম হোসেন। তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিকাশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, কাঠামোগত সংকট, রাজনৈতিক সংস্কৃতির দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার অভাব এবং নাগরিক অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণাত্মকভাবে উপস্থাপিত হয়। একই সঙ্গে তিনি গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সচেতন নাগরিক সমাজ ও শিক্ষার ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন। তিনি তাঁর আলোচনায় বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রধান অন্তরায় কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্তরেও নিহিত। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি নৈতিকতা, সহনশীলতা ও যুক্তিবাদী মননের চর্চা অপরিহার্য।’ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এ ক্ষেত্রে নাগরিক চেতনা ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সবশেষে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র একটি চলমান প্রক্রিয়া- যার সাফল্য নির্ভর করে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন এবং সচেতন নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব গঠনের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। এ ধরনের বিষয়ভিত্তিক বক্তৃতামালা শিক্ষার্থীদের বাস্তব রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতা অনুধাবনে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার আসাদুজ্জামান খান পরান।
