মো: মনিরুজ্জামান খান গাইবান্ধা:
গাইবান্ধায় অন্তবর্তীকালীন সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমরা এমন একটা বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো বৈষম্য, অবিচার, অনিয়ম-দুর্নীতি থাকবে না। আমরা চাই আপনারা গণভোটে হ্যা ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবেন। আমরা আগামীতে বাংলাদেশের পরিবর্তন চাই।
এজন্য জাতীয় নির্বাচনের দিন আমরা গণভোটের আয়োজন করেছি। নতুন বাংলাদেশ গড়তে এই প্রথমবারের মত প্রবাসী ভাইয়েরা পোষ্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে। আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠন হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
তিনি বলেন, সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য পোষণ করা হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। একজন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যেন ১০ বছরের বেশী সময় ক্ষমতায় না থাকে, প্রধানমন্ত্রী ১০ বছরের বেশী সময় ক্ষমতায় থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ দেশকে একটি এক নায়কতন্ত্র পরিনত করতে পারে, যা গত ১৫ বছরে আপনারা দেখেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণভোটের প্রচার কার্যক্রম নিয়ে (১৯ জানুয়ারি) সোমবার বিকেলে গাইবান্ধা ইনডোর স্টেডিয়ামে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মুশফিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুন, সহকারি কমিশনার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট সুকান্ত কুন্ডু, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী রাজনৈতিক,সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠনসহ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সমবেত হন।
