শেখ শামীম (নিজস্ব প্রতিবেদক): নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে একই দিনে সাময়িক বরখাস্ত ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্যা কলমাকান্দা’।
আইনের চোখে সবাই সমান- এটাই গণতন্ত্রের মৌলিক সৌন্দর্য। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার আগেই সাময়িক বরখাস্ত এবং একই দিনে শোকজ নোটিশ জারি করা কতটা যুক্তিযুক্ত ও ন্যায়বিচারসম্মত?
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী জনস্বার্থে সাময়িক বরখাস্তের বিধান থাকলেও, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার (Procedural Justice) কতটা অনুসরণ করা হয়েছে- তা নিয়েই মূলত প্রশ্ন উঠছে।
অনেকের মতে, শোকজের জবাব গ্রহণ ও পর্যালোচনার পর শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এলে সেটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হতো।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, জনস্বার্থ রক্ষা অবশ্যই জরুরি। তবে ন্যায়বিচার শুধু হওয়াই নয়, তা দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার প্রভাব পড়ে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর, যা দীর্ঘমেয়াদে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের একাংশের মত, এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নয়। বরং এটি আইন, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিত্বের সীমারেখা কোথায়- সে বিষয়ে একটি জনস্বার্থমূলক আলোচনা। তারা মনে করেন, প্রশ্ন তোলা কোনো অপরাধ নয়; বরং সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন তোলাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও স্পষ্টভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে বিভ্রান্তি কমবে, একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থাও আরও দৃঢ় হবে।
গত ১৮ জানুয়ারি (রবিবার) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের (ইউপি-১ শাখা) সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মোতাছেম বিল্ল্যাহ এর স্বাক্ষরিত এক স্মারকে কলমাকান্দার লেঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আবার একই দিনে আরেক স্মারকে চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোম মাধ্যমে স্থানীয়দের মাঝে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে।
