শেখ শামীম (নিজস্ব প্রতিবেদক): নেত্রকোনার কলমাকান্দায় অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে বাধা প্রদান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি বিরূপ মন্তব্য ও আদালত অবমাননার অভিযোগে লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। বরখাস্ত হওয়া সাইদুর রহমান ভূইয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাতাছেম বিল্যাহ।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ, কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। আদালত চলাকালীন সময়ে তিনি আদালতের প্রতি বিরূপ মন্তব্য করেন এবং আদালত অবমাননাকর আচরণ করেন।
এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর উপস্থিতিতে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে বাধা প্রদান ও অসম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণ করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনে রয়েছে।
এসব কর্মকান্ড ইউনিয়ন পরিষদ ও জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) এর (ঘ) ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ায় একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাকে পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় বাধা ও আদালত অবমাননার বিষয়টি তদন্তে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়া বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কি হচ্ছে, তা জানার অধিকার আমার আছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাদের আগে কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি। আমাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়েও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া বাজার এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ ওঠে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই মো. পারভেজসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের দায়ে মো. পারভেজকে আটক করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়া। এসময় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে তার বাগবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওকে উদ্দেশ করে বলেন, কার অনুমতিতে এসেছেন? আমার ইউনিয়নে মোবাইল কোর্ট করতে হলে আগে আমাকে জানাতে হবে।
এ সময় ইউএনও জানতে চান, এটি কোন আইনে আছে? জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, চেয়ারম্যানের আইনে আছে।
বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
