জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
সারাদেশব্যাপী স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। পূর্বে টিসিবির পণ্য বিতরণে ডিলার ও কিছু অসাধু ব্যক্তির তৎপরতায় অনেক উপকারভোগীর পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও ২০২৫ সাল থেকে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ শুরু হওয়ায় তেমন কোনো অভিযোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডিলার ও সচেতন মহল।
এতে একদিকে যেমন বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরেছে, অন্যদিকে উপকারভোগীরা পেয়েছেন পণ্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা। ফলে সঠিকভাবে পণ্য পেয়ে খুশি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ১২ হাজার ৪১৯টি পরিবার। জানা যায়, টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্যক্রম ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে হাতে লেখা ফ্যামিলি কার্ড থেকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডে স্থানান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে নতুন স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ শুরু হয়।
বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৫০–৫৫ লাখ পরিবার এ সুবিধার আওতায় রয়েছে, যা আগের প্রায় এক কোটি কার্ডধারীর তুলনায় কম। এর ফলে হাতে লেখা ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মধ্যে প্রায় ৪৩ লাখ কার্ডধারী এই সুবিধা থেকে বাদ পড়ে যান এবং বর্তমানে শুধুমাত্র স্মার্ট কার্ডধারীরাই পণ্য পাচ্ছেন। সরিষাবাড়ী উপজেলায় পূর্বে ২৮ হাজার ৬০৩ জন উপকারভোগী এ সুবিধার আওতায় থাকলেও স্মার্ট কার্ড কার্যক্রম চালু হওয়ার পর সিংহভাগ উপকারভোগী বাদ পড়ে যান।
বর্তমানে উপজেলায় ১২ হাজার ৪১৯ জন উপকারভোগী স্মার্ট কার্ডের আওতায় থাকলেও এখনো ১৬ হাজার ১৮৪ জন উপকারভোগী এর আওতার বাইরে রয়ে গেছেন। এ অবস্থায় সকল প্রকৃত উপকারভোগীকে দ্রুত স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে উপকারভোগীরা জানান, আগে হাতে লেখা কার্ডে কখনো পণ্য পাওয়া যেত, কখনো পাওয়া যেত না—অনেক সময় অন্য কেউ তাদের পণ্য তুলে নিত। বর্তমানে সে সমস্যা আর নেই। কার্ডধারী ছাড়া অন্য কেউ পণ্য তুলতে পারে না। কোনো উপকারভোগী যদি কোনো মাসে পণ্য তুলতে না পারেন, তবে তিনি পরবর্তী মাসে তা তুলতে পারেন—অন্য কেউ তা আত্মসাৎ করতে পারে না।
এ বিষয়ে ডিলার মো. রেদোয়ান আহম্মেদ সুমন, খাইরুল ইসলাম পরান, মঞ্জুরুল হাসান মিন্টু, সেলিম রেজা মিলন ও আল আমিন মিলু জানান, স্মার্ট কার্ড উপকারভোগীদের পণ্যপ্রাপ্তির শতভাগ নিশ্চয়তা নিশ্চিত করেছে। স্মার্ট কার্ড ছাড়া কেউ পণ্য তুলতে পারে না।
ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে ভেরিফিকেশনের পর পণ্য বিক্রয় সম্পন্ন হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে বিক্রয় হিসাব অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত হয়। তারা আরও জানান, কোনো মাসে যদি ১০ জন উপকারভোগী কোনো কারণে পণ্য উত্তোলন করতে না পারেন, তবে ওই ১০ জনের পণ্য উত্তোলন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী মাসে নতুন বরাদ্দ আসে না। ফলে কোনো কার্ডধারীর পণ্য সংশ্লিষ্ট ডিলার বা অন্য কারও আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই।