লোকমান আহমদ
সিলেট সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ঘোষিত কর্মবিরতি এই সংবাদ (শনিবার রাত ৮টা) লিখা পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে সুনামগঞ্জ থেকে আসা এক অন্তঃসত্ত্বা রোগীর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালের চারতলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত নার্স ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রোগীর স্বজনরা ওয়ার্ডে ভাঙচুর চালান এবং এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা করেন। এ সময় ওই নারী চিকিৎসককে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় তিনজন ওয়ার্ডবয় আহত হন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে হাসপাতালে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জের ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)। তাদের মধ্যে দুজন আহত হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতেই এক বিবৃতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে একজন নারী চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের হামলা ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক।
তারা দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণাও দেন তারা। শনিবার সকাল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি শুরু হয়। দুপুরে হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হলেও কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়নি।
বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান জানান, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ তিন দফা দাবি পূরণ হলে তারা কাজে ফেরার বিষয়ে প্রস্তুত। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, হামলার ঘটনা তদন্তে শনিবার দুপুরে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির মধ্যেও বিকল্প ব্যবস্থায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চলমান রয়েছে।
ওসমানী হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম ও সহকারী পরিচালক ডা. মো. কামরুজ্জামান জানান, হাসপাতাল এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন। সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।