স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোরঃ
অগ্নিযুগের ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় জুড়ে আছেন কিংবদন্তি, কালজয়ী অগ্নিপুরুষ মাস্টারদা সূর্য সেন। উপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ভাঙতে তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ—চিন্তা, সংগঠন ও সাহসের এক অনন্য সংমিশ্রণ। বিপ্লবী সূর্য সেন, যিনি আমাদের কাছে ‘মাস্টারদা’ নামেই অমর হয়ে আছেন, ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা।
চট্টগ্রামের মাটিতে তিনি যে বীরত্বের ইতিহাস লিখেছিলেন, তা আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সূর্য সেন কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন স্বাধীনতার কারিগর। ১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া এক দুঃসাহসী পদক্ষেপ।
তাঁর নেতৃত্বে একদল তরুণ বিপ্লবী চট্টগ্রামকে চার দিনের জন্য ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করেছিলেন। চট্টগ্রাম সশস্ত্র অভ্যুত্থানের সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিনি প্রমাণ করেছেন, শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কেবল অস্ত্রের নয়, আদর্শেরও লড়াই। তাঁর নেতৃত্বে তরুণরা পেয়েছিল দিশা, আর আন্দোলন পেয়েছিল প্রাণশক্তি।
কারাগারের অমানবিক নির্যাতনও তাঁর অটল বিশ্বাসকে ভাঙতে পারেনি। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি রেখে গেছেন সাহস, ত্যাগ আর আত্মমর্যাদার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুক্তির স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ করে। আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা যখন মাথা উঁচু করে দাঁড়াই, তখন মাস্টারদার মতো বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় এই স্বাধীনতার মূল্য কতখানি।
তিনি শিখিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে শুধু অস্ত্র নয়, অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন ১৯৩৪ সালের আজকের এই দিনে (১২ই জানুয়ারি) পরলোকগমন করেন। আজ তাঁর ৯২তম প্রয়াণ দিবসে, এই অগ্নিযোদ্ধার স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। মাস্টারদা সূর্য সেন—আপনি ইতিহাস নন, আপনি প্রেরণা।
