রুহুল আমিন,স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মহামহিম প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরিফ শুরু হয়েছে। সাম্য, শান্তি ও ঐক্যের মহান বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অংশগ্রহণে এই উরস শরিফ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের বিশাল জামাত শেষে পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উরস শরিফের কার্যক্রম শুরু হয়। ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে চার দিনব্যাপী এই বিশ্ব উরস শরিফ ১০, ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উরস শরিফের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
উরস উপলক্ষে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলকে নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো আশেকান, জাকেরান, ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসলমান ও ভক্তবৃন্দ ইতোমধ্যেই বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে সমবেত হয়েছেন। উরস উপলক্ষে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, ধর্মীয় আলোচনা, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন ভোররাত ৩টায় রহমতের সময় থেকে শুরু হয়ে এশার নামাজের পর দয়াল নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উদ্দেশ্যে ৫০০ বার দরুদ শরিফ পাঠের মাধ্যমে দিনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হয়। দিনব্যাপী চলে ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ মোনাজাত।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের সুমহান প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে আগমন করেন। সে সময় আটরশি ছিল একেবারেই অনগ্রসর ও ধর্মীয় চর্চাবিবর্জিত এলাকা। কোরবানির ঈদের দিন মাত্র তিনজনকে নিয়ে তিনি সেখানে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন—এই জনপদে যেন একদিন বিশাল ঈদের জামাত কায়েম হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ আটরশিতে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
আটরশির নিভৃত পল্লীতে জাকের ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সত্য তরিকা ও ইসলামের হিদায়াত প্রচার শুরু করেন। দীর্ঘ সাধনা ও ত্যাগের মাধ্যমে তিনি এই অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা বদলে দেন এবং ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করেন।
উল্লেখ্য, হজরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.)-এর দাদাপীর হজরত সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রহ.) ফরিদপুর জেলার গেরদা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এ অঞ্চলে ইসলামের হিদায়াত প্রচারে বাধার সম্মুখীন হয়ে কলকাতা গমন করেন এবং যাওয়ার পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, “এখানে আমার গোলামের গোলাম আসবে, যার সামনে কোনো অপশক্তিই টিকবে না।” সেই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তব রূপ লাভ করে হজরত এনায়েতপুরী (কু.) ও তাঁর গোলাম খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.)-এর মাধ্যমে। তাঁদের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামের পুণ্যভূমি ‘বিশ্ব জাকের মঞ্জিল’।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে নিজ জীবন গড়ে তোলা খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) দীর্ঘ ৪০ বছর নিজ পীরের সান্নিধ্যে সাধনায় রত ছিলেন। তিনি ছিলেন রাসুল (সা.)-এর সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুসারী এবং তাঁর জীবনযাপন ছিল নবিজীর চরিত্রের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
বিশ্ব উরস শরিফকে কেন্দ্র করে আটরশি ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ও সেবামূলক ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিশ্ব উরস শরিফ উদযাপিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।


