নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বায়িং হাউস কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে সপরিবারে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন- রোয়াইলবাড়ি যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন মিয়া।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার সাহিতপুর বাজারে।
ভুক্তভোগী মো. সাজ্জাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মরহুম অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. সাজ্জাদ তাঁর গ্রামের বাড়ি কৈলাটি থেকে কয়েকটি গাছ কেটে বিক্রি করেন। গাছগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ী স্বপন ও সামসু মিয়া ক্রয় করেন। পরে গাছগুলো সাহিতপুর বাজারে আনার পথে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সহিলাটি এলাকায় যুবদল নেতা মিলন মিয়ার নির্দেশে আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে সাহিতপুর বাজারে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে অভিযুক্ত মিলন মিয়া মো. সাজ্জাদকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় বাজারে উপস্থিত বহু মানুষ ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রকাশ্য প্রাণনাশের হুমকি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মো. সাজ্জাদ বলেন, মিলনের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধ নেই। তিনি কেন এ ধরনের হুমকি দিয়েছেন, তা বুঝতে পারছি না। তবে আমার বাড়ির পাশে নাসিমা নামের এক নারীর সঙ্গে আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। আমার ধারণা, তার প্ররোচনাতেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মিলন মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ঘটনার সময় আমি নেত্রকোনায় ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত মো. মিলন মিয়া ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
