নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আল আমিনের বিরুদ্ধে অবৈধ বিএড সনদে দীর্ঘ বছর ধরে উচ্চতর স্কেলে বেতন নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী- সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু শিক্ষক আল আমিন বিধিবহির্ভূতভাবে বেসরকারি কলেজ থেকে বিএড সনদ অর্জন করে তিনি অধ্যাবধি পর্যন্ত উচ্চতর স্কেলে বেতন নিচ্ছেন।
এ কারণে ২০১৬ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের পরিদর্শন রিপোর্টে শিক্ষক আল আমিনের বিএড সনদ অর্জনকে বিধিবহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়। ওই সময় পর্যন্ত উচ্চতর স্কেলে প্রাপ্ত সরকারি বেতন ভাতা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে বলা হয়।
তবে দীর্ঘ বছরেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের পরিদর্শনকালে শিক্ষক আল আমিনের অবৈধভাবে বিএড সনদ অর্জন এবং উচ্চতার স্কেল প্রাপ্তির বিষয়টি ধরা পড়ে। শিক্ষা পরিদর্শক মো. আব্দুস সালাম আজাদ ও সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই পরিদর্শন রিপোর্ট প্রকাশ হয় ২০১৮ সালের মে মাসে।
তারা রিপোর্টে আরও লেখেন, আল আমিন কর্মরত অবস্থায় নেত্রকোনা খান সাহেব আবদুল আজিজ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে ২০১৩ সনে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০০৮ সালের পরিপত্র অনুযায়ী- সরকারি এবং বেসরকারি মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান/স্বীকৃতি প্রাপ্ত বিদ্যালয়ে কর্মরত বিএড বিহীন শিক্ষক-শিক্ষিকাগণকে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড প্রশিক্ষণ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হলো। পরিপত্র মোতাবেক তিনি কর্মরত অবস্থায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন না করায় বিএড এর দাবিতে উচ্চতর স্কেল পাবেন না। কাজেই বিএড দাবিতে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এক লাখ সাত হাজার ৫২০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ জাহান। তিনি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দীর্ঘ বছর ধরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে ছিলেন প্রধান শিক্ষকের স্বামী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র লতিফুর রহমান রতন। গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক থাকায় পরিদর্শন রিপোর্ট আমলে নেওয়া হয়নি জানান স্থানীয়রা।
পরিদর্শন রিপোর্টের বিষয়টি উল্লেখ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন বলেন, আমি যে কলেজ থেকে বিএড করেছি এটি সরকারি না হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন। এতে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি। মূলত অডিটের সময় টাকা না দেওয়ায় তারা এসব রিপোর্ট লিখেছেন। শুধু আমি একা নই আমার সাথে শ্যামপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের আরও দুইজন শিক্ষক ওই কলেজ থেকে একই বছরে বিএড করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মমতাজ জাহান মোবাইল ফোনে বলেন, আমি একটি কাজে ব্যস্ত আছি। পরে এ বিষয়ে কথা বলব।
বিষয়টি অবহিত করলে বিদ্যালয়ের অন্তর্বতীকালীন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির আহম্মদ বলেন, খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মোহনগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মিজবাহ উল হক জাল সনদে চাকরি করছেন বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল। তার চাকরি বাতিলসহ এমপিওভুক্ত না করার বিষয়ে পরিদর্শন রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু রিপোর্ট প্রকাশের পরপরই অনিয়ম করে তাকে এমপিও করা হয়। পরে কয়েক বছর চাকরি করার পর শিক্ষক মিজবাহর এমপিও বাতিল করে শিক্ষা বিভাগ। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত মিজবাহর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
