রুহুল আমিন,ডিমলা(নীলফামারী)
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজে তুচ্ছ এক বেঞ্চ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ছুরিকাঘাতের ঘটনায় শিক্ষার্থী নাসিম হোসেনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী আল আমিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুপথযাত্রী অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) কলেজ কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা শেষে নাসিমের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল করে অফিসিয়াল আদেশ জারি করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়—ঘটনা তদন্তে নাসিমের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে প্রতিষ্ঠানের অনুপস্থিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
এদিকে আহত আল আমিনের শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, “ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। আমাদের ছেলে বেঁচে উঠুক—এটাই এখন একমাত্র চাওয়া।” একই সঙ্গে তারা সকলের দোয়া কামনা করেছেন।
ঘটনার পরদিন, ২৮ নভেম্বর, আল আমিনের পরিবার ডিমলা থানায় নাসিম হোসেনকে একমাত্র আসামি করে মামলা করে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ঘটনায় এখনো আসামি কিংবা কোনো সহযোগী গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের ক্ষোভ চরমে। কলেজপাড়াজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলছেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুমে ছুরি নিয়ে হামলা—এটা নজিরবিহীন। নাসিমকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে।”
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের জ্ঞান নিতে স্কুলে পাঠাই, ভয় নিয়ে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা সংকট আরও বাড়বে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সহিংসতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে দীর্ঘদিন অস্থির করে রাখে। প্রশাসন চাইলে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এ ঘটনার দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা—এই হামলার ন্যায়বিচার শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা ফেরানোর পথ খুলে দেবে।
