জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মিরান শেখ ও জিয়ারুল শেখ নামে দুই ভাই হত্যার ঘটনায় মামলার পর বাদী পক্ষের সাক্ষী আরিফ হোসেন এর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের চর-মল্লিকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে শুক্রবার বেলা ৩ টার দিকে আরিফ হোসেন এর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একতলা বিশিষ্ট বাড়ির বিভিন্ন দেয়াল ভাঙা, জানালার গ্রিল, দরজাসহ ঘরের মধ্যে থাকা টিভি, ফ্রিজ, আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের ভাঙাচুরা অংশ পড়ে আছে বাদ যায়নি ঘরের মধ্যে ও বাইরে থাকা টয়লেটও। এছাড়া পাশের একটি ছোট ঘরেও ভাংচুর চালানো হয়।
ভুক্তভোগী আরিফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, চর-মল্লিকপুর গ্রামের দুই ভাই হত্যার মামলায় আমি এক নম্বর সাক্ষী। বিভিন্ন সময়ে আসামিরা ও তাদের পক্ষের লোকজন আমার বাবার কাছে চাঁদা দাবি করেন, চাঁদার টাকা না দেয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার আমার বাড়ি এসে আমার বাবা মোশাররফ হোসেনকে হত্যা মামলার আসামিরা বলে কাকা তুমি টাকা দিলে না তুমার বাড়ির কিছু থাকবেনানে। এরপর আজ শুক্রবার আসামি পক্ষের লোকজন আমার বাড়িঘর ভাংচুরসহ লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করবো।
আরিফ হোসেন এর মা খাদিজা বেগম বলেন, আসামিরাসহ তার পক্ষের ২০/২৫ জন লোক অস্ত্রসহ আমার বাড়িতে ঢুকে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এছাড়া আমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে আমার মেয়ের হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আমার সব কিছু শেষ হয়ে গেলো। আমি এর বিচার চাই।
প্রতিবেশী কয়েকজন জানান, শুক্রবার দুপুরে হটাৎ করে ২০/৩০ জন লোক আরিফ হোসেন এর বাড়িতে হামলা চালায় এসময় প্রাণ ভয়ে আমরা ঠেকাতে যায়নি। তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে যাবতীয় মালামাল ভেংগে চুরে ও লুটপাট করে চলে যায়। এ ঘটনায় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ যেনো দোষীদের উপযুক্ত সাজা হয়।
তবে এসব অভিযোগ এর বিষয়ে জানতে আসামিসহ তাদের পক্ষের একাধিক লোকের সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আশিকুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের (১১ সেপ্টেম্বর) নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর মল্লিকপুর গ্রামে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে মিরান শেখ ও জিয়ারুল শেখ নামে আপন দুই ভাই নিহত হন। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর নিহতদের বড় ভাই মুরাদ শেখ ৩৬ জনকে অভিযুক্ত করে লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিরা জামিনে গ্রামে ফিরে হত্যা মামলাটি তুলে নেয়ার হুমকি ধমকি প্রদান করে।