কে. এম. সাখাওয়াত হোসেন: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক দুই স্থান তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারীসহ অন্তত ৪০ জনের মতো আহতের খবর পাওয়া গেছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
বুধবার (২ এপ্রিল) সকালের দিকে খালিয়াজুরী গাজীপুর পাড়ায় ব্স্তা ফেলে রাস্তা বন্ধ এবং একই উপজেলায় লক্ষ্মীপুর গ্রামে সাউন্ড বক্স বাজনোকে কেন্দ্র করে এই দুই ঘটনায় উভয় পক্ষের মাঝে সংঘর্ষে বাধে।
প্রত্যক্ষ দর্শী গাজীপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য হারুন মিয়া জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শফিকুল মিয়া গাজীপুর পাড়ায় বস্তা ফেলে রাস্তা বন্ধ করেছে। এমন খবরে তিনি (হারুন মেম্বার) নিজে এসে বাঁধা প্রদান করেন এবং চেয়ারম্যানের দোহাই দিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ (বুধবার) সকাল ৯টার দিকে শরীফ গ্রুপের পক্ষে সালাম মিয়া ও মোস্তাকিমের নেতৃত্বে আলী জাহান পক্ষে খাদেম মিয়ার বাড়িতে হামলা করে। পরে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং দুপক্ষের অন্তত ৩৪ জন আহত হন।
খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একে ফজলুল হক জানান, আহতদের মধ্যে বেশির ভাগ লোককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে আহতদের আহতের মধ্যে সালাম মিয়া (৬২) ও মোস্তাকিম এর অবস্থা আশংকাজনক। এছাড়াও গুরুতর আহতের মধ্যে রয়েছেন সোগেরা আক্তার (২৪), পায়েম (৩২), শামীম চৌধূরী। তাদের সকলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মমেক হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
অপর আরেক ঘটনায় খালিয়াজুরী সদরের লক্ষ্মীপুর গ্রামে সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে জালাল মিয়া ও আক্তার মিয়ার ছেলেদে সাথে সংঘর্ষ বাধে।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জালাল মিয়ার ছেলেরা সাউন্ড বক্স বাজাতে থাকলে আক্তার মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া বাঁধা দেন। পরে তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডার একপর্যায়ে আক্তার মিয়ার ছেলে জালাল মিয়াকে লাথি মারলে জালাল মিয়া মাটিতে পড়ে যান। গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানা হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ (বুধবার) সকালে আক্তার মিয়া বাজারে আসলে নতুন করে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।। এতে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ছয় জন আহত হন।
উভয় পক্ষের আহতরা হলেন- আক্তার মিয়ার ছেলে ইমরান (৩২), আলু মিয়া (১৮), আক্তারের স্ত্রী ইদুমা (৫২), মুকশেদ মিয়ার ছেলে মুন্না (২২), মেহেদি হাসান (২৫), জালাল মিয়ার ছেলে রহমতুল্লাহ (১৮) ও মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে জালাল মিয়া ( ৬০)।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।