নিজস্ব প্রতিবেদক: সাদা মাটির পাহাড়, রানীখং মিশন, হাজং মাতা রাশি মণি স্মৃতি সৌধ, কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি যাদুঘর, ঐতিহাসিক কমল রানীর দিঘী, সুসঙ্গ রাজবাড়ী, মানবকল্যানকামী অনাথালয়, নীল পানির জলাধার, সোমেশ্বরী নদীর স্বচ্ছ পানি, কমলা বাগান, ফান্দা ভ্যালি, সোমেশ্বরী নদীর কাঠের সেতু, বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একাডেমিসহ ছোট-বড় অসংখ্য পর্যটন স্পটে ঈদের ছুটি কাটাতে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার পরিজন নিয়ে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে এসেছে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।
কেউবা পাহাড়ে উঠছেন, কেউবা সোমেশ্বরী নদীর স্বচ্ছ পানিতে গোসল করছেন, কেউবা আদিবাসীদের সাথে কথা বলছেন আবার কেউবা প্রকৃতির কাছে গিয়ে ছবি তুলছেন। ঈদের দ্বিতীয় দিনে পর্যটকদের এমন ভীড় বিগত দশ বছরেও কেউ দেখেনি। যেনো পর্যটকদের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে সাদা মাটির পাহাড়।
বুধবার (২ এপ্রিল) দেখা গেছে, ঈদের ছুটি কাটাতে দুর্গাপুরের বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরতে কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে। কেউ আসছেন দম্পতি আবার কেউ আসছেন বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে। সবাই এই স্মৃতি ধরে রাখতে সেলফিবন্দি হচ্ছেন। অন্যান্য স্পটগুলোর চেয়ে এবার সাদা মাটির পাহাড় এবং সোমেশ্বরী নদীর লেকে পর্যটক সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা বে-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসানুল হক বলেন, জিআই পণ্য খ্যাত সাদামাটির পাহাড় দেখতে আমি প্রথমবার দুর্গাপুরে এসেছি। আমরা চারবন্ধু মিলে মোটবাইক নিয়ে সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি। রাস্তা আগের চেয়ে অনেক ভালো, পর্যটন এলাকার সব জায়গা গুলোই সুন্দর। যারা এখানে কখনো আসেনি, আমি বলবো তারা এখানে না আসলে এই সৌন্দর্য উপভোগ করার শান্তিটা বুঝতে পারবে না। সত্যি বলতে আমি অনেক অনেক খুশি হয়েছি।
ময়মনসিংহ থেকে আসা আরেক পর্যটক তাসলিমা আক্তার বলেন, সাদা মাটির পাহাড়ে ভালো লাগার মতো অনেক কিছুই আছে। ভিডিওতে যতটুকু সুন্দর লাগে বাস্তবে তারচেয়েও বেশি সুন্দর। তবে এতোসুন্দর জায়গা কিন্ত প্রচার নাই কেনো বুঝতে পারছিনা। ঈদ উপলক্ষে অনেক বেশি ভিড় তারপরেও ভালো লাগছে। আশ-পাশের যে খাবারের দোকান গুলো রয়েছে তার মানও ভালো এবং দাম অনেক কম। এককথায় বলতে সত্যিই চমৎকার একটা জায়গা সুসঙ্গ দুর্গাপুর। সবগুলো স্পটই যেনো সাজানো গুছানো।
স্থানীয় বাসিন্দা গণি মিয়া বলেন, বছরের প্রায় সবময়ই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে দুটি ঈদে এখানে পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিনত হয়। এইবার ছুটি বেশি তাই মানুষ ঘোরাফেরার সুযোগ পেয়েছে। আজকেও পর্যটকের ভিড় অনেক। আগামীকাল আরো বাড়বে মনে হচ্ছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা দেখেছি অন্যান্য বারের চেয়ে এবার দর্শনার্থীদের ভিড় অনেক বেশি। ঈদের লম্বা ছুটি পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্গাপুরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে আসছেন অনেক মানুষ। শুরু থেকেই আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কেউ যেনো সীমান্তের কাছে না যায় সে বিষয়েও সতর্ক করা হচ্ছে।