নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতারণার মাধ্যমে গঠন করা নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার তিলসিন্দুর ও এস দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে কারণ দর্শাতের বলা হয়েছে।
বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খবিরুল আহসান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কমিটি গঠনের জন্য প্রার্থীদের কাগজপত্র বোর্ডের কাছে প্রেরণ করা আমাদের কাজ। এর বাইরে কেন, কিভাবে, কি হলো তা জানা নেই।
এ বিষয়ে করা অভিযোগ, মাদরাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নাছিমূল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন ওই মাদরাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজাহকে। সুপার ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনজনের নাম উল্লেখ করে সভাপতি মনোনয়নের জন্য বোর্ডে তালিকা প্রেরণ করেন। তালিকায় ১ নম্বরে থাকা নজরুল ইসলাম তালুকদারকে সভাপতি করার জন্য সুপারিশও করেন সুপার। কিন্তু সকলকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে লবিং করে গত ৬ মার্চ সভাপতি হয়ে যান তালিকায় নাম না থাকা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী নামে এক ব্যক্তি। নিয়মবহির্ভূতভাবে কমিটির সভাপতি হওয়ায় এ বিষয়টিকে প্রতারণা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও অনিয়মের ওই কমিটিতে অভিবাবক সদস্য করা হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন নামে একজন অভিভাবককে। যার ছেলে দশম (দাখিল) শ্রেণির ছাত্র। নিয়মানুযায়ী দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া কোন শিক্ষার্থীর অভিভাবক কমিটিতে ওই সদস্য পদ পাওয়ার নিয়ম নেই।
সভাপতি প্রার্থীদের তালিকায় ১ নম্বরে থাকা নজরুল ইসলাম তালুকদার স্নাতকোত্তর পাশ ও জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। অপরদিকে কমিটির সভাপতি হওয়া মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ডিগ্রি পাশ করা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।
মাদরাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি- নজরুল ইসলাম তালুকদার মাদরাসার সুপার ও উপজেলার সকল দায়িত্বশীলদের সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েও সভাপতি নির্বাচিত হননি। অপরদিকে লবিং করে সুপারিশ ছাড়াই সভাপতি বনে গেছেন মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। এটি প্রতরাণা ছাড়া কিছুই না।
অবৈধ এডহক কমিটি নিষিদ্ধ ও পুনরায় কমিটির গঠনের লক্ষ্যে আদালতে মামলা দায়ের করেন সভাপতি প্রার্থী নজরুল ইসলাম তালুকদার। পরে মামলাটি আমলে নিয়ে নব গঠিত ওই এডহক কমিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।
এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান বিদ্যা বলেন, সুপার (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজাহ কমিটি গঠনের বিষয়ে সকলকে অবগত করেনি। তিনি নজরুল ইসলাম তালুকদারকে সুপারিশ করে বোর্ডে তালিকা প্রেরণ করেন। কিন্তু মাস্টার্স কমপ্লিট করা একজন প্রার্থী রেখে কিভাবে ডিগ্রী পাস করা একজনকে সভাপতি দিতে পারে বোর্ড। অনিয়ম যখন নিয়মে বদলায় তার একটাই কারণ তা হচ্ছে লবিং বা ঘুষ। মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর যোগাযোগ রয়েছে। মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা মান্নান আনন্দমোহন কলেজের প্রভাষক। তাদের বোর্ডের সাথে লিয়াজু আছে। লবিং করে যে কমিটি অনুমোদন করিয়েছে মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। সেই কমিটির সদস্য সচিব সুপার হাফিজাহ পদত্যাগ করার আবেদন করেন। আদালত থেকে কমিটির বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও এসেছে। এসব নোংরামির মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করছে।
সুপার (ভারপ্রাপ্ত) ও এডহক কমিটির সদস্য সচিব হাফিজাহ জানান, এই কমিটির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সভাপতি সাধারণ সভার চিঠি পাঠালে এই বিষয়ে অবগত হই এবং এই চিঠি সময় চেয়ে ফেরত পাঠাই। কিন্তু সভাপতি সময় দিতে রাজি না হয়ে তারাহুরো করে সভা করতে চান। তাই ভারপ্রাপ্ত সুপারের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে ২২ মার্চ আবেদন করেছি। যে কমিটি সুপারিশ করে বোর্ডে পাঠিয়েছি তা অনুমোদন না দিয়ে, যাচাই বাছাই না করে, কাউকে অবগত না করেই বোর্ড এই কমিটি অনুমোদন করিয়েছে। কেন করিয়েছে আমার বোধগম্য হচ্ছে না।
কমিটির উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের করা মামলার বাদী নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, যোগ্যতা যাচাই বাছাই না করে নিয়ম বহির্ভূত কমিটি স্থগিত করে পুনরায় কমিটি গঠনের জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত তথ্য প্রমাণ আমলে নিয়ে কমিটির উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। আশা করি সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে যোগ্যতা ভিত্তিক নতুন কমিটি গঠন করবে কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, বোর্ড আমার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সভাপতি নিয়োগ করেছেন। আমি কোন অসদুপায় অবলম্বন করিনি। অন্য এক প্রার্থী মামলা করেছেন। এখন আদালত যাচাই-বাছাই করে রায় দিবেন।