আমার বয়স তখন চৌদ্দ। মা আমাকে একটি কথা বলার পর যা আমার জীবনে যেন একটি বড় পরিবর্তন দেখা দেয়। সেদিন ছিল শুক্রবার স্কুল ছুটির দিন। আমরা সেদিন সব বন্ধুরা সিন্ধান্ত নিলাম দূরে কোথাও ঘুরে আসব। কিন্তু মা আমাকে না যাওয়ার জন্য বারণ করেন। কারণ মা গাড়ি করে কোথাও গেলে অনেক ভয়ে থাকত। তাছাড়া আমি ছিলাম পরিবারে সবার ছোট তাই মা আমাকে একা দূরে কোথাও যেতে দিতে চাইত না। সেদিন আমি মার সাথে অভিমান করে বললাম আমি দূরে কোথাও একেবারে চলে যাব। সে কথা শুনে মা আমার সাথে অভিমান না করে বললেন যেখানে যাও না কেন খোকা তোমার জন্য সবসময় হৃদয়ের দরজা খুলা থাকবে। পরে আমি খুব চিন্তা করলাম মার সাথে আমি অভিমান করার পরে-ও মা আমাকে বলল আমার জন্য হৃদয়ের দরজা সবসময় খুলা।

পরেরদিন স্কুলের যাওয়ার পথে দেখি একজন মা এবং তার ছেলে ঠিক কি বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করছিল বুঝতে পারি নাই। ঠিক সেখানেও তার মা বললেন খোকা তোমার জন্য তোমার মায়ের হৃদয়ের দরজা সবসময় খুলা। স্কুলে গিয়ে আমি আরো চিন্তায় পড়ি প্রতিটি মা কেন এই কথা বলে!! হঠাৎ স্যার ক্লাসে এসে আমাকে দেখে বললেন শুভ আজকে তুমি চিন্তায় কেন? কি নিয়ে চিন্তা করতেছ?? তখন আমি স্যারকে সব বললাম। তখন স্যার আমাকে বললেন দেখ বাবা সকল মা সন্তানদের উপর কখনো অভিমান করে না। সকল মায়েরা নিজের জীবনের চেয়েও বেশি সন্তানকে ভালোবাসে। তাই তোমার মা তোমাকে একথা বলছে। আমি তখন বিষয়টি বুঝতে পারলাম।

দিনের পর অবশেষে চিন্তা করলাম বসে বসে। যদি প্রতিটি মানুষ সকল মায়ের মত সকল প্রাণির প্রতি ভালোবাসা থাকলে হয়তো পৃথিবীতে আর হিংসা, অভিমান, অহংকার বলে কিছু থাকত না। আজ হিংসার কারণে, অহংকারের কারণে, অভিমানের কারণে মানুষ শান্তি খোঁজে পায় না। হোক পরিবারের ক্ষেত্রে, হোক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, হোক সমাজের ক্ষেত্রে, হোক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। আমাদের মনে এই হিংসা, অভিমান, অহংকার জমা হতে হতে যেন একটি হিমালয়ের পর্বের মতো হয়ে গেছে বা মহাসাগরের মতো হয়ে গেছে, যার কারণে আমরা সুখ বা শান্তি খোঁজে পায় না। তাই আমাদের এইগুলো ধ্বংস করা প্রয়োজন। যদি আমরা হিংসা, অহংকার, অভিমান ধ্বংস করে দিতে পারি তাহলে আমরাও প্রতিটি মা যেমন তার নিজ সন্তানের প্রতি হৃদয়ের দরজা সবচেয় খুলা রাখে ঠিক আমরাও পৃথিবীর সকল প্রাণির প্রতি হৃদয়ের দরজা সবসময় খুলা রাখতে পারব।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version