উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর তিন কর্মকর্তা এনজিও ব্যবসা করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা – দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়
First Lead NewsHeadlineLead Newsজাতীয়

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর তিন কর্মকর্তা এনজিও ব্যবসা করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা

ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ এনজিও ব্যবসা, সুষ্ঠ তদন্ত ও শাস্তির দাবী ভুক্তভোগীদের

সীমাহীন দুর্নীতি এবং নিজ দপ্তরের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে বেনামে এনজিও ব্যবসার মাধ্যমে অর্থলোপাট করে একাধিক বাড়ী গাড়িসহ বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সহকারী পরিচালক মোঃ আলী আকবর, উপ-পরিচালক মোঃ রিপন কবীর লস্কর ও মো. মোশারফ হোসেন এর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, বিভিন্ন জেলায় লিড এনজিওদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে নামে-বেনামে এনজিওর পার্টনারশীপ নিয়ে কয়েক কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নিয়েছেন। জনাব আলী আকবর কালেভদ্রে গাজীপুর অফিসে যান বাকী সময় হেডঅফিসে বসে গডফাদার বনে পর্দার অন্তরালে থেকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। সঠিক তদন্ত করলেই সবকিছু বের হয়ে আসবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

অভিযোগে প্রকাশ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় আউট অফ স্কুল চিলড্রেন প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় অলিখিত পার্টনার হিসেবে আলী আকবর পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেন। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায় তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার এর এনজিও দিয়ে কাজ না করেই সব অর্থ আত্মসাৎ করার ধান্ধা করছেন। জানা যায় মিরপুরে তার বাসায় এবং পাশেই একটি বাসায় অফিস নিয়ে সেখানে এনজিওর কাজ করা হয়। তিনি অফিসের পর সেখানেই সকল পরিকল্পনা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ রিপন কবীর লস্কর এবং উপ-পরিচালক (বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ) মোশারফ হোসেন বিভিন্ন এনজিওদের নামে নিজেরাই বেনামে অভিযোগ তৈরি করে আবার তারাই প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সেজে সংশ্লিষ্ট এনজিওদের থেকে অনেক অর্থ হাতিয়ে নেন। অভিযোগে আরো জানা যায়, আকবর-রিপন জুটি প্রকল্প-১ থেকে শুরু করে পিএলসিএইচডি-১,২, বিএলপি ও সর্বশেষ সেকেন্ড চান্স প্রকল্পে তাদের তৈরী করা নামে-বেনামে একাধিক এনজিও দিয়ে ব্যবসা করেছেন, হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অর্থ।

উপ-পরিচালক (বাস্তবায়ন) মোশারফ হোসেন সহকারী পরিচালক থাকা অবস্থায় পিএলসি এইচডি-২ প্রজেক্ট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল হতে বিভিন্ন অনিয়ম করে বিভিন্ন এনজিও দের ভুয়া বিল দেওয়ার মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ আছে। অতন্ত  ধূরন্ধর প্রকৃতির এই কর্মকর্তার বর্তমানে ঢাকা শহরে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল সম্পদ আছে বলে অভিযোগে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভাগীয় মামলাও হয়েছিলো। কিন্তু টাকার বিনিময়ে মামলা নিষ্পত্তি করিয়েছেন। এই একই অভিযোগ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সহকারী পরিচালক আলী আকবরের বিরুদ্ধেও রয়েছে।

অভিযোগে আরো জানা যায়, উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ রিপন কবীর লস্করের পরিবার ও তার বেনামে বেশক’টি এনজিও রয়েছে যা, উপানুষ্ঠানিক বিভিন্ন কাজের সাথে সম্পৃক্ত এবং সে এনজিও সিলেকশনের সময় কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে যেসব এনজিও কাজ করছেন, এনজিও সিলেকশনের শেষ হওয়ার পরেও তাদের দুর্বলতা বের করার চেষ্টা করে ভূয়া নামে মিথ্যা অভিযোগ বানিয়ে আবার নিজেই তা তদন্ত করে বিপুল অর্থ কামাই করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি এ ধরনের কয়েকটি অভিযোগ তদন্ত করে আবার ভালো রিপোর্ট দিয়েছেন যা এসবের প্রমাণ বহন করে।

জানা যায়, উপ-পরিচালক মোশারফ ও রিপন কবীর লস্কর সহকারী পরিচালকদের গ্রেডেশন তালিকায় অনেক নীচে থাকা সত্বেও বিপুল অর্থ ব্যয় করে ও প্রভাব খাটিয়ে মেধাবী কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে ডিডি হয়েছেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য উপ-পরিচালক মোঃ রিপন কবীর লস্করের মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি তাকে। অপরদিকে উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেনের মোবাইলে কল দিলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, তিনি এসব অভিযোগের সাথে জড়িত নন বা এসব ব্যাপারে জানেন না। তিনি আরও বলেন, তার অফিসের কিছু দুষ্টু লোক বা যারা দূর্নীতি করেন তারা মিথ্যা অভিযোগ করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভাটগাও দীপ্তশিখা তরুণ সংঘ নামে মোঃ আলী আকবরের স্ত্রীর একটি এনজিওর মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার কাজ বাগিয়ে নেন তিনি। সেখানে সঠিকভাবে জরিপ না করেই তালিকা বানিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণার আশ্রয় নেন। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক যাচাইকালে ধরা পড়ে এবং প্রধান শিক্ষকগণ তাদের সাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে বলে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন বলে বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা যায়।

সূত্র আরো জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট বিষয়টি গোচরীভূত হওয়ার পর তিনি কমিটির সভা ডাকেন এবং সেখানে প্রমাণাদিসহ ঐ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হলে নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন উপায়ান্তর না দেখে জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন। জানা যায় ইউএনও লিড এনজিও উদয়কে এসব জালিয়াতির প্রতিকার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন এবং সঠিক নিয়মে কাজ করার জন্য বলেন। লিড এনজিও উক্ত সংস্থাকে শোকজ করলে তার উত্তর না দিয়ে সংস্থার নেপথ্য কুশীলব আলী আকবর নানাভাবে লিডকে হেনস্থা শুরু করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এক পর্যায়ে লিড এনজিও তাদের সাথে চুক্তি বাতিল করলে আলী আকবর শুরু করেন আসল খেলা। টাকা দিয়ে বিভিন্ন লোকজন ভাড়া করে নানাভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। উপর মহলের প্রভাব খাটিয়ে ও মিথ্যা কিছু অভিযোগ সাজিয়ে লিড এনজিও ও জেলার সহকারী পরিচালকে জড়িয়ে নিজস্ব কায়দায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মহাপরিচালকের উপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। তার নির্দেশনায় যে এসব অপকর্ম পরিচালিত হচ্ছে তা তার এবং আনোয়ার হোসেনের মোবাইল কললিস্ট ও রেকর্ড চেক করলেই অনায়াসেই প্রমাণ মিলবে।

অভিযোগে প্রকাশ, আলী আকবর ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপি-জামাতের দোসর। উপানুষ্ঠানিক কর্মকর্তা সমিতির সেক্রেটারী পদবী ব্যবহার করে নানানরকম ফায়দা আদায় করেন তিনি। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। গাজীপুরে তার কর্মস্থল হলেও কালেভদ্রে অফিস করেন বাকী সময় হেড অফিসে ঘোরাঘুরি করে বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু বললেই তাকে নানাভাবে হেনস্তা করেন। ইতিপূর্বেও তিনি এনজিও ব্যবসা করে ধরা খেয়েছেন কিন্তু অর্থব্যয় ও প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে গেছেন।

এইসব অভিযোগের ব্যাপারে  সহকারী পরিচালক মোঃ আলী আকবরের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইলে কল দেওয়া হলে তিনি এসকল ব্যাপার অস্বীকার করেন।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর এই তিন কর্মকর্তার অত্যাচার আর ষড়যন্ত্রে অনেক এনজিও ও ভূক্তভোগীরা অতীষ্ঠ বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিপুল বিত্তবৈভবের উৎস অনুসন্ধান ও একটি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরী বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন।

সূত্রঃ সমাজ উন্নয়ন সংসদ কর্তৃক মাননীয় সচিব বরাবর দাখিলকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে। 

Tags
Show More

এই বিভাগের আর খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close