২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট - দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়
Lead Newsঅর্থনীতিবাংলাদেশসরকার

২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট

২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে এ বাজেট ঘোষণা করেন তিনি।

দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশের ৫০তম বাজেট এটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের তৃতীয় বাজেট এটি।

জীবন ও জীবিকা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৃষি খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সম্পাদিত কাজের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী সামগ্রিক ব্যয় কাঠামো (উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়) তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।

*খাতওয়ারী বাজেট বরাদ্দঃ

সামাজিক অবকাঠামো: ১ লাখ ৭০ হাজার ৫১০ কোটি টাকা।

মানবসম্পদ: ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা।

সামাজিক নিরাপত্তা: ১ লাখ ৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা।

কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন: ৭৪ হাজার ১০২ কোটি টাকা।

যোগাযোগ ও অবকাঠামো: ৬৯ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: ২৭ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা।

করোনা মোকাবেলা: ১০ হাজার কোটি টাকা।

স্বাস্থ্যখাত: ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও প্রযুক্তি গবেষণা: ১০০ কোটি টাকা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা: ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা।

মাধমিক ও উচ্চ শিক্ষা: ৩৬ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা: ৯ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন: ৪১ হাজার ১০ কোটি টাকা।

কৃষি: ২৪ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়: ৪ হাজার ১৯১ কোটি টাকা।

তৈরি পোশাক খাত: ১ শতাংশ হারে রপ্তানি প্রণোদনা।

এছাড়া পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। এবারের বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এই ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক উৎস থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২২৭ মার্কিন ডলারে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। আর মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-২০ সালে দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৬ বছর।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আমরা একটি স্বর্ণালী যুগ অতিক্রম করলাম, যা সারাবিশ্বে সমাদৃত বঙ্গবন্ধুর পরে অর্থনীতি ও উন্নয়ন, সমাজনীতি, সংস্কৃতি, আইনশৃখলা, পররাষ্ট্রনীতিসহ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। গত ১২ বছরে জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭ শতাংশের বেশি ছিল এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ শতাংশ অতিক্রম করে। মূল্যস্ফীতি ছিল সহনীয় পর্যায়ে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার, যা বর্তমানে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ওই সময়ে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ, বর্তমানে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। জিডিপির আকার ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমান অর্থবছরে দশগুণের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু ২০০৫-০৬ অর্থবছরের ৫৯ বছর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-২০ সালে দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৬ বছর। শিশুমৃত্যু হার কমে প্রতি হাজারে ৮৪ থেকে ২৮ এবং মাতৃমৃত্যু হার প্রতি লাখে ৩৭০ থেকে কমে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

দ্যা মেইল বিডি/খবর সবসময়

Show More

এই বিভাগের আর খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close