কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের হারুলিয়া গ্রামে একদল মৎস্য চাষির চোখেমুখে এখন কেবলই রাজ্যের হতাশা। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া বিষে গিলান্দর বিলের প্রায় ১২ লাখ টাকার মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। গত তিন দিন ধরে বিলের পানিতে ভাসমান মরা মাছগুলো যেন ১৫ জন বিনিয়োগকারীর ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।
জানা যায়, পাঁচ একর আয়তনের ওই বিলটি গ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন এবং প্রতি বছরই নিলাম বা ডাকের মাধ্যমে এটি লিজ দেওয়া হয়। চলতি বছর সর্বোচ্চ দুই লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিলটির লিজ পান স্থানীয় আবু কাইয়ুম ভূঁইয়া। এর পাশাপাশি তিনি ৭২ হাজার টাকা দিয়ে কাছের আরেকটি ডোবাও লিজ নেন। পরবর্তীতে আরও ১৪ জনকে সাথে নিয়ে ১৫ জনের শেয়ারহোল্ডার দল গঠন করে সেখানে মাছ চাষ শুরু করেন। মাছের পরিচর্যা ও পাহারার জন্য হায়দার আলী নামের একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মাছগুলো বেশ বড় হয়ে বিক্রির পুরোপুরি উপযোগী হয়ে উঠছিল।
হতাশায় নিমজ্জিত শেয়ারহোল্ডাররা জানান, ঋণ করে তারা বিলে বিনিয়োগ করেছিলেন। তাদের আশা ছিল এবার অন্তত ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতে পারবেন, কিন্তু এক রাতের ব্যবধানে তাদের সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে স্থানীয় কোনো কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় পাহারাদার হায়দার আলী বিলের পাড়ে ইদ্রিস মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। এর পরদিন সকাল থেকেই বিলের চিত্র পাল্টাতে শুরু করে এবং একের পর এক মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠতে থাকে। দেশীয় জাতের পুঁটি, ভেদা, টেংরা ও টাকি মাছগুলো মরে ভেসে ওঠে এবং কার্প, বোয়াল, শোল ও গজার মাছগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বিলের পানিতে ভাসছে কীটনাশকের খোলা প্যাকেট, যা বিষ প্রয়োগের নির্মম এই অভিযোগকে একেবারে সুস্পষ্ট করেছে।
ইজারাদার আবু কাইয়ুম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, মাছ নিধনের বিষয়টি তিনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন এবং গ্রামবাসীর সাথে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি এখনও অবগত নন। তবে এ ধরনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রথমে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি লোকমুখে এমন ঘটনার কথা শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তিনি পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।




