নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদক পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। তবে এবার তাদের সেই অভিনব কৌশলও কাজে আসেনি। সাধারণ একটি ব্যাটারিচালিত অটো ভ্যানগাড়ির সিটের নিচে এবং পেছনের গোপন চেম্বারে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদের চালানসহ পেশাদার এক মাদককারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলার পূর্বধলা থানাধীন বাড়হা বোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকের এই চালানটি জব্দ করা হয়। এদিন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নেত্রকোনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, মাদকের বড় একটি চালান ওই এলাকা দিয়ে পাচার হতে যাচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে একটি রেইডিং টিম বুধবার দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে পূর্বধলা থানাধীন বাড়হা বোর্ড বাজারস্থ মাসুম টেলিকমের সামনের রাস্তায় (জারিয়া থেকে শ্যামগঞ্জগামী পাকা সড়ক) অবস্থান নেয়।
এ সময় সন্দেহভাজন ব্যাটারিচালিত একটি অটো ভ্যানগাড়ি সেখানে পৌঁছালে সেটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন অভিযানিক দলের সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে ভ্যানগাড়িতে সন্দেহজনক কিছু চোখে না পড়লেও, পরবর্তীতে ব্যাপক তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর চিত্র। দেখা যায়, ভ্যানগাড়ির ড্রাইভিং সিটের নিচে এবং পেছনের অংশে অত্যন্ত সুকৌশলে গোপন একটি চেম্বার তৈরি করা হয়েছে, যার ভেতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে ভারতীয় দামি মদের বোতল।
অভিযানে ৮৮ বোতল (যার ওজন ৬৬ লিটার) ভারতীয় বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ভ্যানগাড়ির সিটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৬ বোতল ‘আইকনিক হোয়াইট’ ব্র্যান্ডের মদ (প্রতিটি ৭৫০ মি.লি. করে ৩৪.৫ লিটার)। আর পেছনের গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার করা হয় ২২ বোতল ‘রয়েল স্ট্যাগ’ (১৬.৫ লিটার) এবং ২০ বোতল ‘ব্লেন্ডারস প্রাইড’ (১৫ লিটার) ব্র্যান্ডের মদ। মদের পাশাপাশি পাচারকাজে ব্যবহৃত অটো ভ্যানগাড়ি এবং আসামির ব্যবহৃত একটি ‘টিসিএল’ ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করেছে ডিএনসি।
গ্রেফতারকৃত ওই মাদককারবারির নাম মো. আনোয়ার হোসেন (৩৬)। তিনি নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার সুসং ডাকঘরের অন্তর্গত চন্দ্রকোনা গ্রামের আবু বক্কর ও মোছা. আনোয়ার খাতুনের ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ঘটনায় আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ডিএনসির পরিদর্শক খন্দকার নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।




