নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা যেন চোরাকারবারিদের কাছে দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে উঠেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কড়া নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্ত এলাকা থেকে জব্দ করা হয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক টাকার চোরাই পণ্য। যার মধ্যে রয়েছে আসন্ন শীতের কম্বল, নামিদামি প্রসাধনী, কয়লা, গবাদিপশু এবং দেশীয় শিং মাছ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি)। তিনি জানান, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৭ ও ২৮ অক্টোবর এসব চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়।
বিজিবির দেওয়া তথ্যমতে, চোরাকারবারিরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল প্রসাধনী ও শীতবস্ত্র পাচারে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লেংগুড়া বিওপির টহল দল সাতশহীদের মাজার নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫৩০ পিস ভারতীয় ফেয়ার এন্ড লাভলী ক্রিম জব্দ করে, যার বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ ২৫ হাজার ২৫০ টাকা। এছাড়া রাত ৯টার দিকে খারনই বিওপির টহল দল বালমাঠ এলাকা থেকে ১৫ হাজার ৪৩৪ টাকা মূল্যের ১৪৩ পিস ভারতীয় কসমেটিক্স আটক করে।
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে কম্বল পাচারের চেষ্টাও। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় নলুয়াপাড়া বিওপি এবং রাত সাড়ে ৯টায় বিজয়পুর বিওপি পৃথক অভিযান চালিয়ে যথাক্রমে ৫০ হাজার ও এক লাখ টাকা মূল্যের ৩০ পিস ভারতীয় কম্বল জব্দ করে।
প্রসাধনী ও বস্ত্রের পাশাপাশি গবাদিপশু, কয়লা এবং মাছও বাদ যায়নি চোরাকারবারিদের তালিকা থেকে। গত মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মোহনপুর বিওপি কড়াইবাড়ী সীমান্ত থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ভারতীয় গরু এবং সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে মহেষখোলা নদীর পাড় থেকে ১৫ হাজার ১২০ টাকা মূল্যের ৭৫৬ কেজি ভারতীয় কয়লা জব্দ করে। সর্বশেষ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে ভরতপুর বিওপির টহল দল গাজিরকোনা এলাকা থেকে ৫২ হাজার টাকা মূল্যের ১৩০ কেজি দেশীয় শিং মাছ আটক করে।
বিজিবি জানায়, দুর্গম সীমান্ত এলাকা ও রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে এসব ঘটনায় কাউকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত প্রতিটি পণ্যই ‘মালিকবিহীন’ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
সাতটি পৃথক অভিযানে জব্দকৃত এসব পণ্যের সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ ২৭ হাজার ৮০৪ টাকা। নিয়মানুযায়ী, আটককৃত শিং মাছ, কয়লা ও গরু নেত্রকোনা কাস্টমস প্রতিনিধির উপস্থিতিতে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জব্দকৃত কসমেটিক্স ও কম্বলগুলো কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিজিবির এমন তৎপরতায় সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে এবং চোরাচালান রোধে বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।




