গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এক শিক্ষার্থীর মায়ের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একটি নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষক আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।গ্রেপ্তারকৃত আবু সাঈদ গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার লালমাটিয়া নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষক এবং মামলার দুই নম্বর আসামি।
এজাহারে অভিযুক্ত অপর দুই শিক্ষক হলেন—ফরিদুল ইসলাম ও মোহন মিয়া।ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সন্তানকে ওই মাদ্রাসায় পড়ানোর সুবাদে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে যোগাযোগের একপর্যায়ে তাঁর ব্যক্তিগত ভিডিও গোপনে ধারণ করা হয়।
এরপর ওই ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও আট আনা ওজনের স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ২৪ অক্টোবর বিকেলে ফোন করে ওই নারীর কাছে আরও ৫২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
ভিডিও ও ছবি মুছে দেওয়ার আশ্বাসে তিনি টাকা দিতে রাজি হন এবং পরিবারের সদস্য ও পরিচিত জনদের নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ ডাকবাংলো এলাকায় টাকা পৌঁছে দিতে যান। তবে টের পেয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। এর আগে গত ৯ অক্টোবর মেয়ের বিষয়ে জরুরি কথা বলার কথা বলে ওই নারীকে মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে আবারও ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজ আলম জানান, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে মামলার দুই নম্বর আসামি শিক্ষক আবু সাঈদকে আটক করা হয়। পরে রোববার ২৫ সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




