রুহুল আমিন, ডিমলা (নীলফামারী)
কালভার্ট নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় মাস আগে। কিন্তু দুই পাশে নেই সংযোগ সড়ক। ফলে যে কালভার্ট নির্মিত হয়েছে মানুষের যাতায়াত সহজ করতে, সেটিই এখনো কাজে আসছে না। বৃষ্টি হলে বিকল্প পথ ডুবে যায় পানিতে। আর কালভার্টের দুই পাশের গর্ত পেরিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের এই দুর্ভোগের কারণ, কালভার্ট নির্মাণের পরও অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি না হওয়া।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে জটিলতার কারণে কাজটি আটকে আছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্যেও স্থানীয়দের সঙ্গে মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনির হাটমুখী সড়কে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে কালভার্ট নির্মাণের পর চলাচলের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, স্বাভাবিক সময়ে চলাচলে ভোগান্তি থাকলেও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বিকল্প বাইপাস সড়ক পানিতে ডুবে গেলে কালভার্টের দুই পাশের গর্ত পেরিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
পশ্চিম ছাতনাইয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলে, “কালভার্ট নির্মাণ হলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় এটি দিয়ে চলাচল করতে পারছি না। বৃষ্টির দিনে বেশি কষ্ট হয়। বাইপাস সড়ক পানিতে ডুবে যায়। আর কালভার্টের দুই পাশে গর্ত থাকায় হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে হয়। দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হলে যানবাহন নিয়েও চলাচল করা সম্ভব হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, “কালভার্টটি মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় সেটি কোনো কাজে আসছে না। দ্রুত সড়ক নির্মাণ করে কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করা দরকার।”
স্থানীয় কৃষক হাসমত আলী বলেন, “এত টাকা খরচ করে কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও আমরা সেটি ব্যবহার করতে পারছি না। অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের কারণে কাজটি আটকে আছে। ফলে নির্মাণকাজ শেষ হলেও পুরো অবকাঠামোটি এখনো মানুষের ব্যবহারের উপযোগী হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম বলেন, “কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, “কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে, তবে প্রকল্প এখনো অনুমোদন হয়নি। এ কারণে ঠিকাদার এখনো বিল করতে পারেননি। বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার যে মাটি ফেলেছেন, স্থানীয় লোকজন তা কাটতে দিচ্ছেন না। এ সড়কের মাটি অ্যাপ্রোচ সড়কে ফেলা হবে। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আশা করি, বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের মাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।”
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের আওতায় সময়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে টুনিরহাট আরঅ্যান্ডএইচ–কলোনির হাট জিসি সড়কে বক্স কালভার্ট নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫৬ লাখ ৫২ হাজার ৭১৩ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৭ টাকা।
নথি অনুযায়ী, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার উপজেলা মোড়, আদর্শ পাড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এন অ্যান্ড সন্স কালভার্টটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে।
তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি না হওয়ায় অবকাঠামোটি পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার সুফল এখনো পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের দ্রুত সমাধান করে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এতে কালভার্টটি ব্যবহার উপযোগী হবে, সহজ হবে মানুষের চলাচল এবং কৃষিপণ্য পরিবহনেও কমবে ভোগান্তি।




