নিজস্ব প্রতিবেদক | The Mail BD
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও ৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে এসব এলএনজি কেনা হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরবরাহের জন্য প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) জেএমকে সূচকের নির্ধারিত দরের চেয়ে ১০ সেন্ট কম দাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৯তম সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। তবে দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে কার্গোর সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।
আরও এলএনজি কেনার উদ্যোগ
দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ জোরদার করেছে সরকার। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন করে এই আমদানির সিদ্ধান্ত এল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে ৯ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরবরাহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। প্রস্তাবে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম জেএমকে সূচকের তুলনায় ১০ সেন্ট কম রাখার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৩৩তম সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরও দুটি এলএনজি ক্রয় প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাবে চেনিয়েরে মার্কেটিং ইন্টারন্যাশনাল এলএলপি ও ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে সরবরাহের প্রস্তাব সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের কথা বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থে দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড, সাহারা এনার্জি রিসোর্স লিমিটেড এবং শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডল ইস্ট লিমিটেড এফজেডই।
তবে এসব প্রস্তাবের ক্ষেত্রে নীতিগত অনুমোদন ও চূড়ান্ত ক্রয়প্রক্রিয়ার অবস্থান এক নয়। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই সরবরাহের চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে।





