কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সীমান্তঘেঁষা ধলাই নদীতে বিষ প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর থেকে নদীর বিভিন্ন স্থানে প্রচুর মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। মাছ ভেসে উঠার খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে নেমে মশারি ও জাল দিয়ে এসব মাছ সংগ্রহ শুরু করেন। তবে বিষক্রিয়ায় মারা যাওয়া এসব মাছ খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
অন্যদিকে, নির্বিচারে মাছ নিধনের ফলে নদীর পুরো জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদী ও স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র রাতের আঁধারে ধলাই নদীতে বিষ ঢেলে দেয়। বিষক্রিয়ায় নদীর বাঘমাছ, মৃগেল, চিংড়ি, বাইম, গুলশা, মলা, ঢেলা ও পুঁটিসহ বিভিন্ন রকমের দেশীয় প্রজাতির মাছ মারা যাচ্ছে। মাছ সংগ্রহ করতে আসা জয়নাল মিয়া জানান, এই নদীতে প্রতিবছরই এভাবে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটে।
তাঁরা প্রায়ই এসব মরা মাছ বাড়িতে নিয়ে রান্না করে খান। তবে নদী থেকে এভাবে মাছ নিধন করাকে অপরাধ উল্লেখ করে তাঁরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাকুর আহমেদ বলেন, বিষ প্রয়োগের ফলে মারা যাওয়া মাছ রান্না করলেও বিষের প্রভাব পুরোপুরি নষ্ট হয় না।
তা গ্রহণ করলে মানবদেহের কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বিষে মরা বলে সন্দেহ হলে সেসব মাছ খাওয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয় বণিক বলেন, নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গর্হিত কাজ ।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন,বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন না করার জন্য জনসচেতনতায় মৎস্য বিভাগের পক্ষ এর আগে মাইকিং ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে। এধরণের কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




