ভারতের আন্দোলনে বাংলাদেশের মন্ত্রীদের ইন্ধনের অভিযোগ দিলীপ ঘোষের
ভারতের রাজধানী দিল্লিসহ একাধিক শহরে চলমান আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের কয়েকজন মন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট দেখলেই বোঝা যাবে, ভারতের এই আন্দোলনের পেছনে কারা রয়েছেন এবং তাঁদের উদ্দেশ্য কী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়ায় একটি দুর্গাপূজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন দিলীপ ঘোষ। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ভারতের চলমান আন্দোলন নিয়ে এসব মন্তব্য করেন।
দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর আন্দোলন অন্তর্ঘাতমূলক এবং এর পেছনে বিদেশি শক্তির ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের মন্ত্রীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এসব পোস্ট দেখলেই আন্দোলনের পেছনের ব্যক্তি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। তাঁর দাবি, আগে যারা আড়ালে ছিলেন, তাঁরা এখন প্রকাশ্যে আসছেন।
বিদেশ থেকে যারা ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের ইঙ্গিতেই আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি পালন করছেন বলেও অভিযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গের এই মন্ত্রী। পাশাপাশি, আন্দোলনে বিদেশি অর্থায়ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিদেশি অনুদানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও অর্থের ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (এফসিআরএ) বিল আনছে। এই বিল বাধাগ্রস্ত করতেই আন্দোলন চলছে বলে অভিযোগ তাঁর।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিসহ দেশটির একাধিক শহরে বিক্ষোভ চলছে। এই আন্দোলনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ এবং তাদের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, নির্বাচনে পিছিয়ে পড়া রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতেই এ ধরনের আন্দোলনকে অবলম্বন করছে।
তবে ভারতের আন্দোলনে বাংলাদেশের মন্ত্রীদের ইন্ধন, বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততা কিংবা অর্থায়নের বিষয়ে দিলীপ ঘোষের এসব অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।





