নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ দমনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পুলিশ সুপার, নেত্রকোনার সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং দুর্গাপুর থানার সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে দুর্গাপুর থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়াড়ি, পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ ১৯ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশের এমন উদ্যোগ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আটককৃতদেকের আদালাতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ।
১৪ জন গ্রেফতার এ অভিযানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল বড় জুয়ার আসরে পুলিশের আকস্মিক হানা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্গাপুর থানা পুলিশ জানতে পারে, দুর্গাপুর থানাধীন বিরিশিরি ইউনিয়নের কাপাসাটিয়া বাজারস্থ জনৈক দুলাল মিয়ার দোতলা মার্কেটের ২য় তলায় টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা চলছে।
এই খবর পাওয়ার পর, গতকাল সোমবার ওসি শাকের আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল রাত ১১:০৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়াড়িরা পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশের তৎপরতায় তারা ব্যর্থ হয় এবং ১৪ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. হারুন অর রশিদ (৪২), মো. জহিরুল ইসলাম (৩৫), রফিকুল ইসলাম (৪০), মো. সহিদ মিয়া (৪০), জিয়াউর রহমান (৪৩), মো. খালেক মিয়া (৩৭, নুর মোহাম্মদ (৪০), আ. সালাম (৪০), ফরিদ মিয়া (২৮), মো. কামাল মিয়া (৪২), মো. হযরত আলী (৫০), আল আমিন (৩৯), মো. লাল মিয়া (৫৫) ও সাইদুল ইসলাম (৩৫)।
এ সময় জুয়ার আসর থেকে নগদ ছয় হাজার ৫১০ টাকা এবং জুয়া খেলার সরঞ্জাম হিসেবে বিভিন্ন রঙের পাঁচ বান্ডিল তাস, একটি চটের বস্তা, একটি প্যাড খাতা ও একটি কলম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় ২০২৩ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনেনিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জুয়ার আসর ছাড়াও পুলিশের বিশেষ অভিযানে আরও পাঁচ জনকে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে, পূর্বের একটি নিয়মিত মামলায় একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের সিআর পরোয়ানাভুক্ত দুইজন এবং জিআর পরোয়ানাভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবনের অপরাধে একজনকে গ্রেফতার করে সামারি ট্রায়ালে পাঠানো হয়। সামারি ট্রায়ালে ওই আসামিকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি জানান, “দুর্গাপুর থানা এলাকাকে অপরাধমুক্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আমাদের এমন বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। জুয়া, মাদক বা অন্য যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।গ্রেফতারকৃত ১৯ জন আসামিকে আজ (মঙ্গলবার) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”




