আন্তর্জাতিক ডেস্ক | দ্য মেইল বিডি
ভারতের তরুণদের আন্দোলনে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ২৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকর্মী নেহা বোরা। একসময় থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই তরুণী এখন ভারতের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন প্রতিবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে তাঁর পরিচিতি বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নেহা বোরা অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) জাতীয় সভাপতি। ভারতের বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কর্মসংস্থানসংকটের মতো বিষয় নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কে উত্তাল ভারত
সাম্প্রতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে, যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজনৈতিক স্বার্থের পক্ষে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপিও অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এই বিতর্কের মধ্যে আন্দোলনকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার সংশোধনপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর।
প্রতিবাদ দমনের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান
শনিবার, ১০ অক্টোবর, দিল্লিতে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল জন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে নেহা বোরো তাঁদের অন্য স্থানে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। পরে দিল্লির দিল্লি হাট এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় পুলিশের হাতে আটক হন নেহাসহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকর্মী। আটক অবস্থাতেও তিনি আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পরে শনিবার রাতেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। আন্দোলনকারীদের কর্মসূচিতে বাধা, ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন এবং একের পর এক আটকের ঘটনা ভারতের তরুণদের প্রতিবাদী আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
থিয়েটার কীভাবে গড়ে দিয়েছে তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি?
নেহা বোরার রাজনৈতিক সক্রিয়তার শুরু এক দিনে হয়নি। ভারতের উত্তরাখণ্ডে বেড়ে ওঠা নেহা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্প ও নন্দনতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন।
স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সময় তিনি একটি থিয়েটার দলের সঙ্গে যুক্ত হন। ভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের অভিজ্ঞতা বোঝার ক্ষেত্রে থিয়েটার তাঁকে সহায়তা করেছে বলে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান তিনি। ২০১৯ ও ২০২০ সালে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে। এরপর বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে।
শুধু একটি ইস্যু নয়, জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ
নেহা বোরার মতে, বর্তমান আন্দোলনকে শুধু কোনো একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা হতাশা, অসন্তোষ ও মানুষের প্রত্যাশা এই আন্দোলনের পেছনে ভূমিকা রাখছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা, বেকারত্ব এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ও প্রতিবাদী উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পরিচিতিও বেড়েছে।
ভারতের সাম্প্রতিক তরুণ আন্দোলনে নেহা বোরার উত্থান তাই কেবল একজন শিক্ষার্থী-অ্যাক্টিভিস্টের পরিচিতি বাড়ার গল্প নয়; বরং তরুণদের ক্ষোভ, গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির দাবিও সামনে নিয়ে এসেছে।





