নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবিকার সন্ধানে, একটু ভালো থাকার আশায় দেশ ছেড়েছিলেন দুই তরুণ। স্বপ্ন ছিল প্রতিবেশী দেশের মাটিতে রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসারের অভাব ঘোচাবেন। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছে দুঃস্বপ্নে। উন্নত জীবনের আশায় অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে আবার দেশে ফেরার পথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হাতে আটক হয়েছেন তারা। একইসঙ্গে আটক করা হয়েছে তাদের প্রতারক ও মানব পাচারকারী দালালকেও।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানাধীন ভবানীপুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর ভবানীপুর বিওপির একটি টহল দল।
আটক হওয়া ওই দুই তরুণের নাম প্রান্ত সরকার (২০) এবং নিউটন সরকার (২০)। প্রান্তর বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানার কুলপতাক আদর্শগড় গ্রামে এবং নিউটনের বাড়ি খালিয়াজুরী থানার শালদিঞ্জা গ্রামে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ থেকে ঠিক দুই মাস আগে স্থানীয় মানব পাচারকারী সিলভার সাংমা নামের দালালের প্রলোভনে পড়েন তারা। ভারতে রাজমিস্ত্রির কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে দালাল সিলভার সাংমা তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ছয় হাজার টাকা করে নেয় এবং অবৈধভাবে তাদের ভারতে পার করে দেয়। সেখানে তারা ভারতের কোচবিহারে কাজ করতে গিয়েছিলেন।
তবে ভিনদেশে গিয়ে পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় তারা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে দেশে ফেরার জন্য তারা পুনরায় সেই দালাল সিলভার সাংমার দ্বারস্থ হন। এবার দালাল তাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করিয়ে দেওয়ার চুক্তিতে আরও ছয় হাজার পাঁচশো টাকা হাতিয়ে নেয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবানীপুর সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় বিজিবির টহল দলের হাতে তারা তিনজনই ধরা পড়েন।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক হওয়া ওই দুই তরুণের কাছে বাংলাদেশের বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়া গেছে। আটকের পর তাদের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজিবি। পরিবারের সদস্যরাও নিশ্চিত করেন, জীবিকার তাগিদেই তারা দুই মাস আগে ভারতে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হলো দালাল সিলভার সাংমার বেপরোয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। দুর্গাপুর থানার ভরতপুর গ্রামের মৃত এনফট নকরেট ও পদনী সাংমার ছেলে সিলভার সাংমা একজন চিহ্নিত মানব পাচারকারী।
নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর পরিচালক ও অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি) প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সিলভার সাংমাকে এর আগেও গত ৬ জুন মানব পাচারের অপরাধে বিজিবি আটক করেছিল। সেসময় তাকে দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করে মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। জামিনে বেরিয়ে সে আবারও একই জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হয়েছে।
অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার এবং মানব পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আটক দুই বাংলাদেশী নাগরিক এবং পাচারকারী সিলভার সাংমাকে দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সহজ-সরল যুবকদের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে দালাল চক্র যেভাবে তাদের সর্বস্বান্ত করছে এবং জীবনের ঝুঁকিতে ফেলছে, তা রোধে সীমান্ত এলাকায় আরও ব্যাপক সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে সিলভার সাংমার মতো চিহ্নিত অপরাধীরা যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে পুনরায় একই কাজ করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি।




