নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নারী ও শিশু পাচারসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)। বিশেষ করে দুর্গাপুরের বিজয়পুর ও ভবানীপুর এলাকার সংবেদনশীল সোমেশ্বরী নদীপথ দিয়ে অবৈধ পারাপার ও চোরাচালান ঠেকাতে নদীর দুই পাড়ে আধুনিক সিসি ক্যামেরা, সোলার সিস্টেম এবং হ্যালোজেন লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যমের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি)।
মতবিনিময়কালে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, “সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সব ধরনের অবৈধ চলাচল রোধ, নারী ও শিশু পাচার এবং সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিত ও চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, গত নয় মাসে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি দ্রব্যসামগ্রী আটক করতে সক্ষম হয়েছে ৩১ বিজিবি। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মদ ও মাদকদ্রব্য, পোশাকসামগ্রী, খাদ্যসামগ্রী, গবাদিপশু এবং অন্যান্য মালামাল। এছাড়া গত পাঁচ মাসে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় কয়লা ও অন্যান্য চোরাচালানি পণ্যও জব্দ করা হয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষায় জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী বলেন, “অধিকাংশ লোক যখন চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন, তখন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, সীমান্ত হত্যা কিংবা আহত হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনা রোধেই আমরা টহল জোরদার করার পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা ও হ্যালোজেন লাইটের ব্যবস্থা করেছি। আমি এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাব, আপনারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করবেন না। এর মাধ্যমে আমরা যেকোনো বড় ধরনের সীমান্ত দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হব।”
গত পাঁচ মাসে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ১৭ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চোরাচালান নির্মূলে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, নিয়মিত জনসচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয়দের অপরাধ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই কার্যক্রম আরও বেগবান করা হবে।
বাংলাদেশ থেকে সার, জ্বালানি তেল, পেঁয়াজ ও রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের বিষয়ে বিজিবির কড়া নজরদারির কথা উল্লেখ করে বিজিবি’র অধিনায়ক বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ রসুন জব্দ করা হয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে সার বা জ্বালানি তেল পাচার হচ্ছে না বলে তিনি জানান।
উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অন্যরাও এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে নিরুৎসাহিত হবে এবং সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবির কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে বলে আমি আশাবাদী।”




