নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ আর সংঘাতের সেই ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। মাস চারেক আগের ওই দ্বন্দ্ব ও অগ্নিসংযোগের মামলায় এবার নেত্রকোনার পূর্বধলায় জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতা-কর্মীকে কারাগারে যেতে হলো। উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া আগাম জামিনের মেয়াদ শেষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নেত্রকোনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা নিয়মিত জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত পরিস্থিতি ও অভিযোগের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ এবং পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, আসামিরা এর আগে হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জন্য আগাম জামিনে ছিলেন। সেই নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বুধবার তারা আইনি নিয়ম মেনে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। শুনানি শেষে বিচারক তাদের সরাসরি কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঘটনার শিকড় গত কোরবানির ঈদের প্রস্তুতিকালে। গত ১৯ মে পূর্বধলা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৫৩টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর জন্য দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। পরদিন ২০ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনিম জাহানের উপস্থিতিতে শুরু হয় প্রকাশ্য নিলাম। এই নিলামকে কেন্দ্র করে ওই দিন উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিএনপি ও জামায়াতের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন।
নিলাম চলাকালে মূলত আগিয়া বাজারের ইজারা পাওয়াকে কেন্দ্র করে দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আগিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান এবং কর্মী এবাদুল ইসলামসহ কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষের বাইরেও দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং প্রশাসন বাধ্য হয়ে সেদিনের মতো ইজারা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে।
উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের এই ঘটনার জেরে ওই দিন বিকেলেই আগিয়া বাজারে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, হাট ইজারার বিরোধকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা যুবদল নেতা শাহরিয়ার ওমর শরীফের ওপর হামলা চালান। এ সময় ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সেদিন সন্ধ্যায় পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। সংঘাতের পরদিন রাতে ক্ষতিগ্রস্ত যুবদল নেতা শাহরিয়ার ওমর শরীফ নিজে বাদী হয়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার আইনি ধারাবাহিকতাতেই এবার অভিযুক্ত ২৫ নেতা-কর্মীকে কারাবরণ করতে হলো।




