চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশনে স্কুলশিক্ষকের ছেলে ও ভাতিজাকে অপহরণ করে মারধরের পর তাদের হাতে ইয়াবা দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়নের স্লুইজ বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শতশত মানুষের উপস্থিতি ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। ভুক্তভোগীদের স্বজনদের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে কুরালিয়া স্লুইজ বাজার এলাকার স্কুলশিক্ষক বিধান চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে স্থানীয় যুবক প্রকাশ ও কিশোরের কথা-কাটাকাটি হয়। এর প্রায় দেড় মাস পর কিশোরের পক্ষ থেকে বিধান চন্দ্র বিশ্বাসসহ তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় হাজিরা দিতে বিধান চন্দ্র বিশ্বাস, তাঁর ছেলে সুব্রত ও ভাতিজা তাপস চরফ্যাশন আদালতে যান। স্বজনদের অভিযোগ, দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আদালতের কাছের একটি দোকানে চা পান করে বের হওয়ার পর ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল সুব্রত ও তাপসকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাদের চরফ্যাশন গরুহাটের পশ্চিম পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সেখানে মারধরের একপর্যায়ে তাদের হাতে ইয়াবা দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। এসব ছবি-ভিডিও প্রশাসনের কাছে দেওয়ার ভয় দেখানোর পাশাপাশি তাদের কাছে মুক্তিপণও দাবি করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। ঘটনার সময় সুব্রত ও তাপসের মোবাইল ফোন দিয়ে অভিযুক্তরা মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার বিষয়ে তাদের কাকা এবং মামলার অপর আসামি স্কুলশিক্ষক বিধান চন্দ্র বিশ্বাসকে ফোন করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে বিধান চন্দ্র বিশ্বাস নজরুলনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সজীব শাহরিয়ারকে জানান। পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। স্বজনদের ভাষ্য, পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে সুব্রতর সঙ্গে তার বাবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কথা বলে।
বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সুব্রত ও তাপসের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে তাদের সেখানে রেখে চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, পরে তাদের হাতে পাঁচটি ইয়াবা দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরদিন এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে সুব্রত ও তাপস সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির শিকার হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার দিন বিকেল ৫টার পর স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তাদের মোবাইল ফোন দুটি ফেরত দেওয়া হয় বলেও জানান স্বজনরা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কাউকে হয়রানি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন কিংবা কোনো মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর উৎস শনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
নজরুলনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সজীব শাহরিয়ার বলেন, “ঘটনার দিন উপজেলার সামনে স্কুলশিক্ষক বিধান চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা হলে তিনি আমাকে বিষয়টি জানান। পরে আমি ইউএনও ও থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি অবহিত করি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবক প্রকাশ ও কিশোর। তারা দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তারা কোনোভাবেই জড়িত নন।তাদেরকে ফাঁসানো হচ্ছে। দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান কবীর বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




