রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় নাজিরপুর ইউনিয়নে সমবায় সমিতির কার্যক্রম ও সাবমার্সিবল পাম্প বিতরণ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক সাংবাদিকের সাথে সমিতির ম্যানেজারের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও মেসেঞ্জার বার্তা প্রেরণকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রামপুর কুবরীকান্দা যুব কো-অপারেটিভ লিমিটেডের ম্যানেজার তানজু বেগম প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেসেঞ্জারে এক সাংবাদিককে ‘দুই পয়সার সাংবাদিক’ উল্লেখ করে বার্তা পাঠান। বার্তাটি কিছুক্ষণ পর মুছে ফেলা হলেও স্ক্রিনশটের মাধ্যমে তা প্রকাশ্যে আসে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি যৌক্তিকতার বিতর্ক।

এরআগে, ভবানীপুর এলাকায় একই ব্যক্তির নেতৃত্বে পরিচালিত তিনটি সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে সদস্যদের কাছ থেকে সাবমার্সিবল পাম্প দেওয়ার কথা বলে অর্থ গ্রহণ, পাম্পের সংখ্যা, গভীরতা এবং অর্থের উৎস ও নথিপত্রের গরমিল নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। প্রতিবেদনটিতে উপজেলা ও জেলা সমবায় কর্মকর্তাদের বক্তব্য যুক্ত করার পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র উপস্থাপন না করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় এক গণমাধ্যম কর্মীকে পাঠানো মেসেঞ্জার বার্তায় তানজু বেগম লেখেন, “আল্লাহ যদি সহায় থাকে এসব দুই পয়সার সাংবাদিক আমাদের প্রতিষ্ঠানের কিছুই করতে পারবে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নথিপত্রে কোনো সমস্যা থাকলে সমবায় অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বার্তার শেষে তিনি লেখেন, “এদের (গণমাধ্যমকর্মীদের) বলে দিবেন আমাদের পিছনে লেগে থাকলে লাভ নাই… রাখে আল্লাহ মারে কে?”

এ ঘটনা জানার পর প্রতিবেদক মুঠোফোনে তানজু বেগমের সাথে যোগাযোগ করেন। ফোনালাপে প্রতিবেদক তাকে স্মরণ করিয়ে দেন, প্রকাশিত সংবাদে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তিনি (তানজু বেগম) আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন বা প্রতিবাদলিপি পাঠাতে পারেন, কিন্তু সাংবাদিকদের ঢালাওভাবে গালিগালাজ করা বা আন্ডারএস্টিমেট করা অনুচিত। এর জবাবে তানজিয়া বেগম আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানান, তিনি প্রকাশ্যে গণহারে সাংবাদিকদের কোনো গালি দেননি; বরং স্থানীয় এক পরিচিত ব্যক্তির সাথে ব্যক্তিগত মেসেঞ্জারে ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন।

তানজু বেগম দাবি করেন, ওই ব্যক্তিও (স্থানীয় সাংবাদিক) তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে সাবমার্সিবল পাম্প পেয়ে আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছেন। তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকরা কেবল সদস্যদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা লেখে, কিন্তু মাঠে সমিতির লাখ লাখ টাকা যে বকেয়া পড়ে আছে এবং সদস্যরা টাকা দিচ্ছে না, সেই খবর কেউ লেখে না।

বর্তমানের সাংবাদিকতা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তানজু বেগম বলেন, আজকাল স্মার্টফোন থাকলেই অনেকে দু-চারটা ছবি ও ভিডিও তুলে সাংবাদিক দাবি করে বসেন, তবে এসব লেখালেখির কারণে তার সমিতির কার্যক্রম বন্ধ হবে না বা সুনামের কোনো ক্ষতি হবে না।

অন্যদিকে, গণমাধ্যম কর্মীদের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলে এবং তাতে তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টদের আইনি প্রতিকার চাওয়ার বা দাপ্তরিকভাবে প্রতিবাদ জানানোর পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা শিষ্টাচারবহির্ভূত। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সমিতিটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে।

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version