তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির জেরে ভাতিজা বিপ্লব পাশী নিহতের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। ভাতিজাকে হত্যার পর আলামত গোপন করতে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মূল হোতা সুস্থ মস্তিষ্কে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠিকানায় ভুল তথ্য দেয়া থেকে শুরু করে এবং ধামাচাপা দিতে প্ররোচনাকারী ও নিহতের চাচা শাওন পাশীকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে এসআরবির-৯ গণমাধ্যম শাখা থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মৌলভীবাজারের ভানুগছ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শাওন পাশী শ্রীমঙ্গলের ভুরভুরিয়া চা বাগানের বর্দি প্রসাদ পাশীর ছেলে।
এসআরবির-৯ দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মাদকাসক্ত অবস্থায় বিপ্লব পাশী বাড়িতে এসে পরিবারের লোকজনকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে তিনি তার ভাই বিজয় পাশীকে মারধর করতে গেলে ধস্তাধস্তির সময় মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহত বিপ্লবের চাচা শাওন পাশীর প্ররোচনায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার এ গোপনীয়তায় তার লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং প্রধান প্ররোচনাকারী শাওন পাশীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এসআরবির-৯ গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত শাওন পাশীকে শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




