মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল আত্মসাতের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। রাতের আঁধারে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের গুদাম থেকে চাল পাচারের সময় সাধারণ মানুষের ধাওয়ার মুখে ১১ বস্তা চাল রাস্তায় ফেলে পালিয়ে গেছে অসাধু চক্রটি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে উপজেলার দুই নম্বর বড়তলী বানিয়াহারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চারদিকে যখন গভীর রাতের নীরবতা, ঠিক তখনই সংঘবদ্ধ চক্র ইউপি কার্যালয়ের গুদাম থেকে কৃষকদের অধিকার- সরকারি বরাদ্দের চাল সরিয়ে ফেলার ছক কষে। তাদের এমন গোপন তৎপরতা চোখ এড়ায়নি স্থানীয়দের।
গুদামের আশপাশে সন্দেহজনক গতিবিধি টের পেয়ে এলাকার কয়েকজন এগিয়ে যান এবং পাচারের বিষয়টি বুঝতে পারেন। অবস্থা বেগতিক দেখে পাচারকারীরা তড়িঘড়ি করে চাল নিয়ে সটকে পড়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা একজোট হয়ে তাদের ধাওয়া করলে রাতের অন্ধকারে চালভর্তি ১১টি বস্তা রাস্তাতেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মোহনগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল। তারা রাস্তায় পড়ে থাকা চালের বস্তাগুলো উদ্ধার করে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে রাতেই সেগুলো থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত ১১ বস্তা চাল বর্তমানে থানা হেফাজতে সুরক্ষিত রয়েছে। পুরো ঘটনাটির পেছনে কারা জড়িত এবং কীভাবে পাচারের চেষ্টা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় কাজ চলছে।”
দরিদ্র কৃষকদের হক নষ্ট করার অপচেষ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উপজেলা প্রশাসন। মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনা খাতুন জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে ইতোমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা নিয়ে কাউকে কোনো ধরনের অনিয়ম করতে দেওয়া হবে না।”
এ ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, যারা এই ন্যক্কারজনক চুরির অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িত, তাদের পরিচয় প্রকাশ করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।




