নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর বার্তার মধ্য দিয়ে নেত্রকোনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য র্যালি ও বিস্তারিত আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করে জেলা বিএনপি ও এর সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন।
মঙ্গলবার সকালে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নির্ধারিত স্থানে জড়ো হতে থাকেন। পরে বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ।
শোভাযাত্রা শুরুর প্রাক্কালে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা ও জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি। তিনি বিগত দিনের আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল বিএনপি নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও নেত্রকোনার নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছিল, জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীরা রাজপথ ছাড়েনি।” দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্পষ্ট বার্তা- ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শোভাযাত্রা শেষে বেলা ১১টায় নেত্রকোনা শহরের পাবলিক হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি ও নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক এস এম মনিরুজ্জামান দুদুর সঞ্চালনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যারা ব্যক্তিস্বার্থে বা আগামীতে জনপ্রতিনিধি হওয়ার লোভে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আগামী দিনে চেয়ারম্যান বা বড় নেতা হওয়ার স্বপ্নে যারা আওয়ামী লীগের লোকজনকে পুনর্বাসন করবেন কিংবা আঁতাত করবেন, প্রমাণ পেলে দলের কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে বা পদে তাদের সমর্থন দেওয়া হবে না।”
কৃত্রিম সার সংকট নিয়েও কথা বলেন তিনি। ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, “দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সারের ডিলারশিপ এখনো স্বৈরাচারের সুবিধাভোগীদের দখলে থাকায় তারা পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারে। যেখানেই অনিয়ম পাবেন, প্রতিহত করবেন এবং প্রশাসনকে জানাবেন।” এছাড়া আওয়ামী লীগের দোসররা বিভিন্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সজাগ থেকে তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার নির্দেশ দেন।
সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “দলের সব কাজ এখন তারেক রহমানের নির্দেশনায় হচ্ছে এবং প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রতি মাসে রিপোর্ট দাখিল করছে। আমি বা আমার আত্মীয়স্বজন- কেউই নজরদারির বাইরে নই।” আসন্ন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যাদের ‘আমলনামা’ ঠিক থাকবে না, তারা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কোনো ক্লিয়ারেন্স পাবেন না। আর আমলনামা ঠিক থাকলে অবশ্যই পদ-পদবি পাবেন।” তিনি দলের ভেতরের অতীত মান-অভিমান ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এডভোকেট নুরুজ্জামান নূরু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদের সুজা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. তাজেজুল ইসলাম ফারাস সুজাত, সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনীক মাহবুব চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, কৃষক দল এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিএনপির দীর্ঘ ৪৮ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ঐতিহ্য ও সাফল্যের কথা তুলে ধরে আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।



