নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা আঞ্চলিক মহাসড়কের নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া এলাকায় সারবোঝাই ট্রাক ও যাত্রীবাহী পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সকলেই ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী মদনপুর মাজারের ওরসে যাচ্ছিলেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর শুক্রবার নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় দায়ের করা এজাহার থেকে নিহত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতরা হলেন- ময়মনসিংহ শহরের কোতোয়ালী থানাধীন আকুয়া ফুলবাড়িয়া রোড (চৌরঙ্গী মোড়) এলাকার মৃত আ. মজিদের ছেলে আ. গফুর (৪৭), একই এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৪১), মৃত কালু মিয়ার ছেলে শাকিল ফকির (৪৫) এবং মৃত মান্নানের স্ত্রী পারুল বেগম (৩৮)।
পুলিশ, স্থানীয় সূত্র ও থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ শহরের আকুয়া এলাকা থেকে ভক্তবৃন্দরা পিকআপ ভ্যানে করে নেত্রকোনার মদনপুর মাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পিকআপটি পূর্বধলা থানাধীন নারান্দিয়া এলাকার হাসিম উদ্দিনের ফসলি জমির সামনের পাকা রাস্তায় পৌঁছালে বিপরীত দিক (নেত্রকোনা) থেকে আসা ময়মনসিংহগামী দ্রুত ও বেপরোয়া গতির সারবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, যাত্রীবাহী পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে পিকআপে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়েন এবং গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং গুরুতর আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সব মিলিয়ে এক নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে শ্যামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ও শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল। তারা স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন এবং দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটিকে সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিহত আ. গফুরের ছোট ভাই মো. রিপন মিয়া (৪১) বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় অজ্ঞাতনামা ট্রাক চালকের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ময়মনসিংহ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে লাশ শনাক্ত করেন। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়ায় এবং পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে হাইওয়ে পুলিশের ওসি বিনা ময়না তদন্তে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে সামান্য বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সারবোঝাই ট্রাক ও ওরসগামী পিকআপের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ (এজাহার) পেয়েছি। দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি জব্দ করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাক চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
দুর্ঘটনার পর নিহতদের নিজ এলাকা ময়মনসিংহের আকুয়া ফুলবাড়িয়া রোডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাজার জিয়ারতে গিয়ে একসঙ্গে চার প্রতিবেশীর এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম চলছে।



