নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ণ না করার অভিযোগ উঠেছে। যোগ্য ও ত্যাগী ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং জামায়াতের কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ গেটে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, “ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে ফ্যাসিস্ট লীগ এবং স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত কর্মীদের নেওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ”।
বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, তারা বিগত ১৭ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশি নির্যাতন ও হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে ত্যাগী ও যোগ্য কর্মীদের সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।
নেতাকর্মীরা সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, ৭নং আগিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আলম খানের ছেলে ফুয়াদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, অথচ দীর্ঘদিনের ছাত্রদল কর্মী মো. তাইজুল ইসলামসহ অন্যান্য ত্যাগী কর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশপাকুনী ইউনিয়নে রানিং উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শান্তকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শারমিন কাওসার, লিমা বেগম, তারিন, আমিনুল ইসলাম এবং মাসুম মিয়াসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়, যারা আওয়ামী লীগ বা জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনকারী মো. আমিনুল ইসলাম ও শাহরিয়ার নোমান খান অভিযোগ করেন, ভাইভাতে যারা ল্যাপটপে নিজেদের নামও লিখতে পারেনি, তাদের সুপারভাইজার বা তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের ফলাফল রাতে প্রকাশ করা হয়েছে, যাকে বিক্ষোভকারীরা ‘প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে নিয়োগ তালিকা বাতিল করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্য ও ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানান। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তালিকা পরিবর্তন করে নতুন তালিকা প্রকাশ করা না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। ইউএনও জানান, উপজেলায় ১১শ’র বেশি আবেদন জমা পড়েছিল, যার মধ্য থেকে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ১১৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ১১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রশাসনের জানা নেই। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে (যেমন: ফৌজদারি মামলা বা কাগজপত্রে ঘাটতি), তা লিখিতভাবে প্রশাসনের কাছে জমা দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



