দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ঐতিহাসিক টংক আন্দোলন ও হাজং বিদ্রোহের কিংবদন্তি নেত্রী কুমুদিনী হাজংয়ের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির আয়োজনে বহেরাতলী গ্রামে কুমুদিনী হাজংয়ের নিজ বাড়িতে এ জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশু-কিশোরদের নিয়ে কিংবদন্তি নেত্রীর ৯৬তম জন্মবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।
এরপর কালচারাল একাডেমির পক্ষ থেকে কুমুদিনী হাজংকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সম্মাননাটি গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে সুরেন্দ্র হাজং। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কালচারাল একাডেমির পরিচালক পরাগ রিছিলের সভাপতিত্বে এবং নৃত্য শিক্ষক মালা মার্থা আরেংয়ের সঞ্চালনায় কিংবদন্তি নেত্রীর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার, বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠনের সভাপতি পল্টন হাজং, আদিবাসী নেতা পাস্টার বারেন্দ্র দ্রং, লেখক ও গবেষক হরিদাস হাজং, কবি লোকান্ত শাওন, কবি সজিম সাইন, গাঁও মোড়ল বিশ্বজিৎ হাজং রুপক, অনিতা হাজংসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা জানান, বৃহত্তর ময়মনসিংহের সুসং জমিদারি এলাকায় টংক প্রথার প্রচলন ছিল। ফসল হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান খাজনা হিসেবে জমিদারকে দিতে হতো। ১৯৩৭ সালে শোষিত কৃষকেরা এ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন, যা ‘টংক আন্দোলন’ নামে পরিচিত। টংক আন্দোলনের অন্যান্য নেতাদের মতো কুমুদিনী হাজংও ছিলেন একজন কিংবদন্তি নারী নেত্রী।
সমাজে তাঁর অবদানের কথা ভোলার নয়। কুমুদিনী হাজং গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। জানা গেছে, হাজং বিদ্রোহের সাক্ষী কুমুদিনী হাজং টংক আন্দোলন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, পাকিস্তানি শাসনামলের জুলুম-নিপীড়ন ও বৈষম্য, ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং মহান স্বাধীনতা আন্দোলনসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী ছিলেন। তিনি ১৯৩০ সালে বর্তমান নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বহেরাতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। জীবদ্দশায় সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে বাংলা একাডেমি তাঁকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে।
এ ছাড়া তিনি অনন্যা শীর্ষদশ (২০০৩), আহমদ শরীফ স্মারক (২০০৫), কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি পদক (২০০৭), সিধু-কানহু-ফুলমণি পদক (২০১০), জলসিঁড়ি পুরস্কার (২০১৪) এবং হাজং জাতীয় পুরস্কার (২০১৮) লাভ করেন। এবার বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির পক্ষ থেকে তাঁকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়।



