শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নিম্নাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও বর্গাচাষীরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ, ঋণ মওকুফ এবং পুর্নবাসনসহ বিভিন্ন জরুরি দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, কলমাকান্দা উপজেলা কমিটি।
রবিবার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর এই স্মারকলিপি পাঠানো হয়।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, সম্প্রতি টানা অতিবৃষ্টি এবং হাওরাঞ্চলের পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কলমাকান্দার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে পরিপক্ক ও আধা-পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষক ও বর্গাচাষীরা মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে যেসব প্রান্তিক চাষী ও বর্গাচাষী চড়া মূল্যে নগদ টাকা দিয়ে জমি লিজ (পত্তন) নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, তাদের দুর্ভোগ এখন চরমে।
কৃষক ও ক্ষেতমজুর সমিতির নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, উপজেলার হাজার হাজার পরিবার সম্পূর্ণভাবে এক ফসলি ধানের ওপর নির্ভরশীল। একটি মাত্র ফসলই তাদের সারা বছরের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার একমাত্র ভরসা। অনেক কৃষক ব্যাংক ঋণ, দাদন এবং বাকিতে সার-কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনে চাষাবাদ করেছিলেন। আকস্মিক দুর্যোগে ফসল ঘরে তোলার আগেই তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, তারা এখন ঋণ পরিশোধে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়েছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে দিন কাটবে- সেই শঙ্কায় দিনমজুর ও কৃষকদের মাঝে এখন হাহাকার চলছে।
কৃষকদের বাঁচাতে স্মারকলিপিতে বেশ কিছু যৌক্তিক ও জরুরি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের সঠিক তালিকা দ্রুত প্রণয়ন করে আগামী ফসল ঘরে না ওঠা পর্যন্ত তাদের পর্যাপ্ত খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সব ধরনের সরকারি ব্যাংক ঋণ অবিলম্বে মওকুফ করা এবং বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও’র সাপ্তাহিক/মাসিক কিস্তি আদায় আপাতত স্থগিত রাখা। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কৃষকদের সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে নতুন কৃষি ঋণ প্রদান করা। হাওর অঞ্চলের বিল, খাল ও নদী দ্রুত খনন করা, টেকসই ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করা। সরকারি ত্রাণ ও পুর্নবাসন কার্যক্রমে সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা। হাওর ও খাস জলাশয়ের ইজারা প্রথা বাতিল করে তা প্রকৃত মৎস্যজীবী সমিতির মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া। আগামী মৌসুমের জন্য মানসম্মত বীজ, সার এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ সময়মতো ও ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি কলমাকান্দা উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রূপক তালুকদার এবং বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন সাহা। স্মারকলিপি হস্তান্তরকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড সিদ্দিকুর রহমানসহ কৃষক, ক্ষেতমজুর ও বিভিন্ন গণসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্মারকলিপিটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। দুর্গত এলাকার কৃষকদের সহায়তায় সরকারি কোনো নির্দেশনা এলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।



