শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দরিদ্র পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ কার্যক্রমে ওঠা ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের দ্রুত সুরাহা হয়েছে। ওজন বাড়িয়ে দেখাতে ডিজিটাল মেশিনে লোহার রিং ব্যবহারের অভিনব জালিয়াতি ধরা পড়ার পর প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তড়িৎ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে কম ওজনের ছাগল পাওয়া অন্তত ৪০ জন উপকারভোগীকে বদল করে সঠিক ওজনের নতুন ছাগল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও প্রায় একশো জনের মাঝে কঠোর নজরদারিতে ছাগল বিতরণের প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর।

এ নিয়ে গতকাল ‘দ্যা মেইলবিডি’ ডটকম অনলাইনে ‘৮ কেজির ছাগল সাড়ে ৩ কেজি, কলমাকান্দায় ক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে কর্মকর্তারা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি দ্রুত জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে আসে। তার নির্দেশনার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কম ওজনের ছাগল পাওয়া উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে ছাগল রিপ্লেস বা বদলে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপে খুশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষেরা। প্রতিস্থাপনে পাওয়া উপকারভোগী অলিভিয়া নংমিন, জয়ন্তী দাওয়া, রবি হাজং, জয় পদ্ম হাংজ, এডেড মানকিন ও মাহাদুর ম্রংসহ অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “প্রথমে আমরা খুব হতাশ হয়েছিলাম। পরে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হয়েছে এবং এখন আমরা সঠিক ওজনের ছাগল পেয়েছি। এজন্য মাননীয় ডেপুটি স্পিকার, উপজেলা প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্ত করা হয়েছে। প্রথম ধাপে একশো জনের মধ্যে ৬০ জনের ছাগলের ওজন সঠিক ছিল। বাকি ৪০ জনের ৮০টি ছাগল রিপ্লেস করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কড়া সতর্ক করা হয়েছে।” তবে ডিজিটাল মাপার যন্ত্রটি এখন সঠিক আছে বলেও তিনি দাবি করেন।
রিপ্লেস কার্যক্রমের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, উপ-প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আনোয়ার সাদাত, সিনিয়র সহকারী পরিচালক ডা. সাদিকুল ইসলাম, কলমাকান্দা প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীম ও সাংবাদিক কাজল তালুকদারসহ আরও অনেকে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীম বলেন, “গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু অনিয়ম তুলে ধরাই নয়, বরং ইতিবাচক সমাধানের পথও তৈরি করা। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আস্থা কিছুটা হলেও ফিরেছে। আগামীতে প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য সরকারের এমন মানবিক উদ্যোগগুলো যাতে কোনো অসাধু চক্রের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেজন্য মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর ও নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।