নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার ধনু নদে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় মাদক ও চোরাই পণ্যসহ তিন চোরাকারবারিকে আটক করেছে লেপসিয়া নৌ-পুলিশ। এসময় চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রলারও জব্দ করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর উপজেলার চানখলাগাও গ্রামের মৃত হাসিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল সালাম (৩৪), একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৮) এবং সোনাপুর গ্রামের মো. রজব আলীর ছেলে মো. হারিস উদ্দিন (৩৪)।
সোমবার (১৮ মে) সকালে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরউদ্দিন এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেষে তাদেরকে আজই আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এরআগে, গতকাল (রবিবার) বিকেলে উপজেলার পাঁচহাট গ্রামের চরপাড়া এলাকায় ধনু নদের পূর্ব পাশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের নৌ-পুলিশ পুলিশ সুপারের দিক-নির্দেশনায় লেপসিয়া নৌ-পুলিশের ইনচার্জ জগৎজ্যোতি চৌধূরী ও এএসআই মো. সাইদুর মিয়াসহ পুলিশের একটি দল এ অভিযান চালায়। গোপন সংবাদ ছিল, খালিয়াজুরীর ধনু নদ দিয়ে ট্রলারে করে নিষিদ্ধ ভারতীয় পণ্য ও মদ পাচার করা হচ্ছে।
এ সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার বিকেল আনুমানিক পৌনে ৫টার দিকে ধনু নদের চরপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশ। ট্রলারটি কিশোরগঞ্জের চামটা বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে ট্রলার থেকে ৮০ বোতল ভারতীয় মদ, চিপস ও জিরা উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে- ৩৫ বোতল ‘এসি ব্ল্যাক’, ২৪ বোতল ‘ম্যাকডুয়েলারস’ ও ২১ বোতাল ‘অফিসার চয়েজ ব্লু’ ব্র্যান্ডর বিদেশী মদ। এছাড়া চোরাই ভারতীয় পণ্যের মধ্যে ৭৫ কেজি ওজনের দুই বস্তা ভারতীয় চিপস এবং ৩০ কেজি ওজনের দুই বস্তা ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়।
লেপসিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জগৎজ্যোতি চৌধূরী জানান, ফাঁড়িতে আসামিদের আটকে রাখার মতো উপযুক্ত কাস্টডি (হাজতখানা) না থাকায়, আটকের পর রাতেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের খালিয়াজুরী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. নাসিরউদ্দিন জানান, “নৌ-পুলিশের উদ্ধারকৃত মাদক ও আসামিদের আইনি প্রক্রিয়া খালিয়াজুরী থানাতেই সম্পন্ন করতে হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং অবৈধভাবে বিদেশী পণ্য সরবরাহের (চোরাচালান) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) তাদের যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”



