উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। আর এই উৎসবকে ঘিরে কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জেও এখন চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উপজেলার ছোট-বড় খামার থেকে শুরু করে গ্রামীণ প্রান্তিক কৃষকদের বাড়ির আঙিনায়ও চলছে গরু, ছাগল ও ভেড়া মোটা-তাজাকরণের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। দেশীয় জাতের পশুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় খামারিরা এবার আরও বেশি যত্ন নিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালন করেছেন।

তবে অধিকাংশ খামারিরা দেশী গরুর পাশাপাশি অল্প সময়ে অধিক লাভ ও মাংসের চাহিদা পূরণে শাহীওয়াল, রেড সিন্ধি ও ফিজিয়ান গরু বেশি পালন করছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ৬ হাজার ২০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই দেশীয় জাতের গরু।

এছাড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ২ হাজার ৭৫৯টি ছাগল ও ভেড়া। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ছোট, মাঝারি ও বড় পরিসরে গড়ে ওঠা প্রায় ২০৪টি খামারে এসব পশু পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি অসংখ্য সাধারণ কৃষক পরিবারও নিজস্ব উদ্যোগে বাড়িতে কোরবানির পশু লালন পালন করছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংশ্লিষ্ট খামারিরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে দেশীয় ও রাসায়নিকমুক্ত পশুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ায় এখন শুধু ব্যবসার জন্য নয় বরং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু উৎপাদনের দিকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত খামার পরিদর্শন, চিকিৎসা সেবা, টিকা প্রদান এবং খামারিদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। ফলে খামারিরাও অধিক আত্মবিশ্বাস নিয়ে পশু প্রস্তুত করছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার শিমরাইল গ্রামের আবুল হাসেম এগ্রো খামারের মালিক আবুল ফয়সাল টিপু জানান, তার খামারে বর্তমানে প্রায় ৪০টি ষাঁড় রয়েছে। এসব গরুকে তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার যেমন ঘাস, খড়, ভুসি, ভুট্টা ও বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্যের মাধ্যমে মোটা-তাজা করেছেন। তিনি বলেন, এবার গরু পালনে অনেক বেশি খরচ হয়েছে। বিশেষ করে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ।

তারপরও আমরা আশা করছি বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকলে এবং ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ না ঘটলে দেশীয় খামারিরা ভালো লাভ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিশেষ করে ভারতীয় গরু অবৈধভাবে বাজারে ঢুকলে দেশীয় খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। এতে ভবিষ্যতে অনেকেই পশুপালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। যা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ক্ষতিকর হবে। স্থানীয় কৃষকরাও বলছেন, কৃষির পাশাপাশি গবাদিপশু পালন এখন তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। অনেক পরিবার কোরবানির মৌসুমকে সামনে রেখে বছরজুড়ে এক বা একাধিক গরু পালন করেন।

যাতে ঈদের আগে বিক্রি করে বাড়তি আয় করা যায়। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রিজভী আহাম্মেদ বলেন, উপজেলায় কোরবানির জন্য যেসব পশু প্রস্তুত করা হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত ও প্রাকৃতিক উপায়ে মোটা-তাজা করা হয়েছে। আমরা মাঠকর্মীদের মাধ্যমে প্রতিটি খামারে নিয়মিত তদারকি করছি। যাতে কোনো খামারি ক্ষতিকর হরমোন বা নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার না করেন। তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরগঞ্জে প্রস্তুতকৃত পশু দিয়ে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলার কোরবানির পশুর বাজারেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এতে স্থানীয় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আমরা আশা করছি। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈশ্বরগঞ্জের পশু শুধু স্থানীয় হাটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইতোমধ্যে অনেক খামারি রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন বড় কোরবানির পশুর হাটে পশু পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এজন্য পরিবহন ব্যবস্থা বাজারজাতকরণ এবং ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও বাড়িয়েছেন তারা।

সবমিলিয়ে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঈশ্বরগঞ্জের খামার ও গ্রামীণ জনপদ গুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশীয় পশুর চাহিদা সরকারি তদারকি এবং খামারিদের পরিশ্রম মিলিয়ে এবারের কোরবানির মৌসুমে ঈশ্বরগঞ্জের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed by themailbd.com.
Exit mobile version