টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলী, মহেলা ও চর ভাবলা এলাকার লৌহজং ও পুংলি নদীতে ​গভীর রাতে স্থানীয় এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে চিহ্নিত বালুখেকোরা নির্ভিগ্নে নদীর বালু বিক্রির মহোৎসব চালাচ্ছেন।

রাতের বেলায় যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, ঠিক সেই সুযোগেই ভেকু দিয়ে নদীর পাড় কেটে চলছে অবৈধ মাটি বিক্রির মহোৎসব।
দিনের বেলায় তারা কিছুটা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পরিণত হয় অবৈধ বাণিজ্যের নিরাপদ অভয়ারণ্যে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী বালুখেকো বাহার উদ্দিন ও উজ্জ্বল সরকারের নেতৃত্বে পৌলী, তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে মহেলা,অছিম উদ্দিনের নেতৃত্বে চলে চর ভাবলায় রাতের আঁধারে নদীর বালুখেকো চক্রের সীমাহীন দৌরাত্ম্যে নদীগর্ভ,রেলসেতু,জনবসতি ও আশপাশের ফসলি জমি আজ চরম হুমকির মুখে।

​সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌলী, মহেলা ও চর ভাবলার লৌহজং ও পুংলি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় একাধিক অসাধু চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কাজ চালিয়ে আসলেও বর্তমানে তারা স্থানীয় এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছেন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই নদীপাড়ের নির্জন এলাকায় ভিড় করে সারি সারি ট্রাক,ড্রামট্রাক। শক্তিশালী ভেকু দিয়ে অবিরাম কেটে নেওয়া হচ্ছে নদীর পাড়। পরে সেই মাটি ট্রাকযোগে পাঠানো হচ্ছে জেলার বিভিন্ন জায়গায়।

​স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আমরা ভয়ে মুখ খুলতে পারি না। তারা প্রভাবশালী। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো আমাদেরকেই মামলা-হামলার ভয় দেখানো হয়। এভাবে চলতে থাকলে আগামী বর্ষায় আমাদের ভিটেমাটি আর অবশিষ্ট থাকবে না। চোখের সামনে আমাদের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, দেখার যেন কেউ নেই।

​পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ভাঙন ত্বরান্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, অবৈধভাবে বালু তোলার খবর পেয়ে কয়েকবার বাধা দেওয়া হলেও চক্রটি দমে না, বরং রাতের আঁধারে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

​এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধে নিয়মিত অভিযান এবং ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ট্রাক,বালিমাটি জব্দ ও জরিমানা কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে।তবে রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপের কারনে কখনো কখনো আমাদের বিব্রতও হতে হয়।

এবিষয়ে স্থানীয় এমপি লুৎফর রহমান মতিন সাহেবের মতামত জানার জন্য টেলিফোনে তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

​স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক কঠোর হস্তক্ষেপ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, অচিরেই নদীপাড়ের শত শত একর ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed by themailbd.com.
Exit mobile version