আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার দক্ষিণ গেইট এলাকায় কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) ঘিরে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এ সহিংসতায় অন্তত কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কেইপিজেড এলাকায় গাছ কাটার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে এক নিরাপত্তারক্ষীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
এতে তার হাত ভেঙে যায়। আহত নিরাপত্তারক্ষী মো. তোবারক আলী (৪৫) এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে সোমবার বিকেলে পুলিশ অভিযান চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তরা ও তাদের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ জানায়, গাছ কাটার সময় বাধা পেয়ে দুর্বৃত্তরা প্রথমে নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ সরে যাওয়ার পর পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শিল্প পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মিজানুর রহমান জানান, অভিযুক্তদের ধরতে গেলে তারা পুলিশের সঙ্গে চরম বিরূপ আচরণ করে এবং একাধিকবার সংঘর্ষে জড়ায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সালাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি এ গাছকাটা চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে কেইপিজেড এলাকা থেকে গাছ কেটে বাইরে পাচার করে আসছে।
বাধা দিলে তারা দা, কিরিচ ও রামদার মতো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। শিল্প পুলিশের আরেক কর্মকর্তা এএসআই বাহার উদ্দিন বলেন, সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন এই চক্রের সদস্যরা আগেও বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত ছিল এবং তাদের কয়েকজনকে পূর্বে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কোরিয়ান ইপিজেডের সহকারী উপ-মহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
এরপর মামলা দায়ের হলে আসামিদের ধরতে গিয়ে পুলিশ নতুন করে হামলার মুখে পড়ে। হামলাকারীরা কেইপিজেডের কিছু স্থাপনাতেও ভাঙচুর চালায়। এ বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী) জামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গাছ কাটাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।



