নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের রাস্তা ও ড্রেনেজ সংকটে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এলাকাটি যেন দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নহীনতার করুণ এক প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ, জরুরি চিকিৎসা বা মৃতদেহ সৎকারের জন্যও চলাচলযোগ্য রাস্তার অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়দের এমন অমানবিক ভোগান্তির চিত্র উঠে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণপাড়া মন্দির সংলগ্ন বাচ্চু বিশ্বাসের বাড়ি থেকে শুরু করে আব্দুল আলীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় চারশো মিটার এলাকায় ২৫-৩০টি হিন্দু ও মুসলিম পরিবার বসবাস করেন। বছরের পর বছর ধরে এ এলাকায় কোনো পাকা বা কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। ফলে, প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম, স্কুল-কলেজ, বাজার কিংবা চিকিৎসার জন্য যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য এই কাদা-পানিতে ডুবে থাকা পথ দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন এলাকায় কেউ মারা যান। শ্মশানে লাশ নিয়ে যাওয়ার মতো ন্যূনতম কোনো উপযুক্ত পথ না থাকায় স্বজনদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়, যা সভ্য সমাজে অত্যন্ত অমানবিক।
একই ওয়ার্ডের ঝুমা তালুকদারের রাইস মিল থেকে প্রফেসর মোহনলাল বিশ্বাস বাড়ি পর্যন্ত এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই এই এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে জমে থাকা দূষিত পানি দীর্ঘদিন ধরে স্থির থাকে, যা পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। স্থির পানির কারণে মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
দীর্ঘদিনের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আবেদন জানিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকসই রাস্তা নির্মাণ এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করার জোর দাবি তাদের। জনবান্ধব নেতৃত্বের আন্তরিক উদ্যোগেই দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধান সম্ভব বলে তারা বিশ্বাস করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও পৌর প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ও রাস্তা উপচে পানি গিয়ে মানুষের চলাচলের ভোগান্তি সৃষ্টির বিষয়টি শুনে সত্যিই কষ্ট লাগলো। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। যত দ্রুত সম্ভব সমাধানকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং তারা একটি নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে পাবে বলে প্রত্যাশা সবার।

