নিজস্ব প্রতিবেদক: শেরপুর সদর থানার চাঞ্চল্যকর এক কিশোরী (১৪) অপহরণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। একইসঙ্গে ঢাকার ধামরাই এলাকা থেকে অপহৃত কিশোরীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মূল অপহরণকারী হলেন- জেলা জামালপুর জেলার মো. হযরত আলী বাবু (২৪)।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী কিশোরীকে প্রথমবার অপহরণ ও ধর্ষণ করে আসামিরা। এ ঘটনায় ওই বছরের ৩ অক্টোবর শেরপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং-০৬) দায়ের করা হয়। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিজ্ঞ আদালত ভিকটিমকে তার পিতা-মাতার হেফাজতে প্রদান করেন।
নিজ পরিবারের হেফাজতে থাকা অবস্থায় গত বছরের ১৫ জুন ওই কিশোরী বাড়ির পাশের নিকটস্থ দোকানে কলম কিনতে যায়। এসময় সুযোগ বুঝে পূর্বের মামলার আসামিরা তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে পুনরায় অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে শেরপুরের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি শেরপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরেকটি মামলা রুজু করা হয়।
মামলাটি রুজুর পরপরই অপহৃত ভিকটিম উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে ছায়াতদন্ত শুরু করে র্যাব-১৪, সিপিসি-১ (জামালপুর) ক্যাম্প। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির নিবিড় ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
গতকাল (সোমবার) রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে র্যাব-১৪ এবং র্যাব-৪, সিপিসি-২ (সাভার) যৌথভাবে ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন কালামপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অপহৃত কিশোরীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে মূল অপহরণকারী মো. হযরত আলী বাবুকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাব-১৪ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত কিশোরীকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার (আইও) কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।

