শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা সদরে অবস্থিত ‘কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে’র দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিরসন এবং বিদ্যালয়টিকে ডাবল শিফটে উন্নীত করার জন্য জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর পৃথক দুটি উপানুষ্ঠানিক (ডিও) পত্র পাঠিয়েছেন তিনি।
মাউশি মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মঈনউদ্দীন আল মাহমুদ সোহেলকে দেওয়া চিঠিতে ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে একজন করে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক (বাংলা) ও সহকারী শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা) এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জরুরি ভিত্তিতে শূন্য এই পদগুলোতে জনবল পদায়নের জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বরাবর পাঠানো অপর আরেকটি চিঠিতে বিদ্যালয়টিকে ডাবল শিফটে উন্নীতকরণ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মচারীর পদ সৃজনের জোর দাবি জানিয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪২ সালে স্থাপিত স্বনামধন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের সময় শুধুমাত্র কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভিত্তিতে পদ সৃজিত হওয়ায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্ধারিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী অনেক প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি হয়নি। এর ফলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়া, বিদ্যালয়টির আশপাশে অন্য কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় হাওর অধ্যুষিত এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক দূর-দূরান্ত থেকে যাতায়াত করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এই সমস্যা সমাধানে এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়টিতে ডাবল শিফট চালুর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।
ডাবল শিফট পরিচালনার জন্য ৫৩টি নতুন পদ সৃজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবিত পদগুলোর মধ্যে রয়েছে- একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক, বিষয় ভিত্তিক অনযায়ি ৪১ জন সহকারী শিক্ষক, তিন জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ও আট জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।
চিঠিতে আরও জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের সময় হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষকের একটি পদ এবং গ্রন্থাগারিকের একটি পদ এরই মধ্যে সৃজিত হয়েছে। নতুন প্রস্তাবিত এই পদগুলো সৃজন ও সংরক্ষণের জন্য প্রধান শিক্ষকের দেওয়া আবেদনপত্রও চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
হাওর অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকারের সময়োপযোগী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কলমাকান্দার স্থানীয় অভিভাবক ও সুধী সমাজ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর এসব চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

