নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাছুম মোস্তফার ওপর অতর্কিত হামলা এবং তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পূর্বধলার আতকাপাড়া ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে প্রায় এক ঘণ্টা মসজিদের ভেতর অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের চরম গাফিলতি ও এটি পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ তুলেছেন সংসদ সদস্য।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় পূর্বধলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান এমপি মাছুম মোস্তফা।
সংবাদ সম্মেলনে এমপি মাছুম জানান, শুক্রবার বিকেলে তিনি এবং জয়নাল আবেদীনসহ বেশ কয়েকজন পূর্বধলার হুগলাতে প্রয়াত পীর সাহেব আহমদ হোসেনের বাড়িতে মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখান থেকে ফিরে মাগরিবের নামাজের সময় ঘনিয়ে এলে তারা আতকাপাড়া ফিলিং স্টেশনে থামেন। পাম্প মালিকের সাথে কথা বলার পর তারা পাম্প সংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায় করতে ঢোকেন।
নামাজ চলাকালীন সময়েই বাইরে থেকে হট্টগোল ও গাড়ি ভাঙচুরের বিকট শব্দ শুনতে পান তারা। এমপি বলেন, “সন্ত্রাসী বাহিনী আমার গাড়ি এবং স্থানীয় এক নেতার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এরপর তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মসজিদের দিকে ধাওয়া করে এবং ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে।”
হামলার সময় মসজিদের সাধারণ মুসল্লিরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তারা ভেতর থেকে সজোরে দরজা আটকে রাখেন, যাতে হামলাকারীরা ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। এ সময় বাইরে থেকে এমপি এবং তার সফরসঙ্গীদের উদ্দেশ্য করে চরম অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
প্রায় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা মসজিদের ভেতর অবরুদ্ধ থাকার পর এমপি মাছুম ভেতর থেকেই ৯৯৯ এ এবং স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফোন করেন। খবর পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এমপি জানান, এর কিছুক্ষণ পর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার সেখানে উপস্থিত হন এবং দরজায় নক করে তাদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “বাবুল আলম তালুকদার আমাকে বলেন- ‘দরজা খোলেন, আমি বাবুল আলম তালুকদার, কোনো সমস্যা নেই’।” এরপর দরজা খুলে দেওয়া হলে বিএনপি নেতাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভেতরে ঢুকে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে ইউএনও’র গাড়িতে করে এমপিকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং ভাঙা গাড়িটি চালকের মাধ্যমে থানায় পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এমপি মাছুম মোস্তফা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমি আমার এলাকায় নিরাপদ নই, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমি পূর্বধলায় আসার আগে এসপি, ইউএনও, ডিএসবি এবং ডিজিএফআইসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমার সাথে কোনো পুলিশ প্রটোকল বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়নি। প্রশাসনের দুর্বলতা সুস্পষ্ট।”
এ হামলাকে সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন এমপি। তিনি জানান, আগে থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি খবর পাচ্ছিলেন, একটি নির্দিষ্ট মহল তাকে পূর্বধলায় ঢুকতে দেবে না বলে পরিকল্পনা করেছে। তিনি বলেন, “হামলাকারীরা সংগঠিত হয়ে এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি এসপি সাহেবকে অনুরোধ করেছি ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে, ফুটেজ দেখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার তাদের কার্যালয়ের গ্লাসে ইট মেরে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ফজলুল ইসলাম বাবুলের ওপরও হামলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি মাছুম মোস্তফা বলেন, “আমরা অবশ্যই আইনের আশ্রয় নেব এবং রাজনৈতিকভাবেও এটি মোকাবিলা করব।”
হামলার প্রতিবাদে আজ (শনিবার) বাদ জোহর পূর্বধলায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন তিনি। সংসদ সদস্যের জরুরী সম্মেলনে নিজ দলের নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

